টাঙ্গাইলের সখিপুরে অবৈধ ১৯টি কয়লা কারখানায় উজার হচ্ছে বন! হুমকির মুখে পরিবেশ

টাঙ্গাইলের সখিপুরে অবৈধ ১৯টি কয়লা কারখানায় উজার হচ্ছে বন! হুমকির মুখে পরিবেশ

Spread the love

টাঙ্গাইল, প্রতিনিধি : টাঙ্গাইলের সখিপুরে সংরক্ষিত বনা লের ভেতরে করাতকলের পর এবার অবৈধভাবে পরপর ১৯টি কয়লা কারখানা গড়ে তোলা হয়েছে।এসব কারখানায় প্রতিনিয়ত উপজেলার বিভিন্ন এলাকার সংরক্ষিত বনের শাল-গজারি, আকাশমনি, ইউক্লেপটাস, মেহেগুনী, বেলজিয়ামসহ অন্যান্য কাঠ পুড়িয়ে কয়লা বানানো হচ্ছে। এতে সামাজিক বনায়ন উজাড়ের পাশাপাশি কালো ধোঁয়ায় পরিবেশ পড়েছে হুমকির মুখে। শিশু,বৃদ্ধসহ আশপাশের পশু,পাখি ও বণ্যপ্রাণি নানা অসুখ বিসুখে আক্রান্ত হচ্ছে।এতে হাজার বছরের ঐতিহ্য শাল-গজারি বাগান প্রায় উজাড়ের পথে।

সোমবার সকালে সরেজমিন উপজেলার তেঁতুলিয়াচালা গ্রামে ৬টি, কীর্ত্তণখোলা গ্রামের ধুমখালী এলাকায় ৬টি এবং কালিয়ান-পাড়া গ্রামে ৭টি কয়লার কারখানা দেখা গেছে। আর প্রতিটি কয়লা কারখানায় গড়ে তোলা হয়েছে সামাজিক বন এবং গণবসতি এলাকায়। প্রতিটি কারখানাই টাঙ্গাইল বন বিভাগের সখিপুর হাতিয়া রেঞ্জের কালিদাস বিট কার্যালয়ের আওতাধীন। মাটির তৈরি বড় আকারের প্রতিটি চুলাই সংরক্ষিত ও সামাজিক বন থেকে আনা কাঠ দিনরাত পুড়িয়ে কয়লা বানানো হচ্ছে। কারখানার আশপাশে বিশাল আকৃতির কাঠ স্তুপ করে রাখা আছে। এর প্রতিটি কারখানায় চার-পাঁচজন শ্রমিক দিনরাত কাঠ চুলায় পোড়ানোর কাজ করছেন। এসব কারখানায় তৈরিকৃত কয়লা বস্তায় ভরে টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করা হয়। প্রতিবস্তা কয়লা ৮’শত থেকে ১’হাজার টাকায় বিক্রি হয়। দিনরাত ওইসব চুলা থেকে কুন্ডলী পাকিয়ে সারা গ্রামে ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ছে। এতে এসব এলাকার শিশু ,বৃদ্ধ, গবাদি পশু,পশুপাখিসহ ফসলও নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। ধ্বংস হচ্ছে সামাজিক বনায়ন ও সংরক্ষিত শাল-গজারি । অপরদিকে দূষিত হচ্ছে পরিবেশ। হুমকির মুখে পড়েছে জীবন যাত্রা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওইসব কারখানার কয়েকজন শ্রমিক বলেন, বনের কর্মকর্তারা প্রায়ই কারখানায় এসে টাকা নিয়ে যান। মালিকপক্ষ সবাইকে ম্যানেজ’ করেই কয়লা পোড়ানোর কাজ করছেন বলেও তারা জানান।

এ ব্যাপারে কারখানা মালিকরা বলেন, বনবিভাগ, স্থানীয় ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের ম্যানেজ করেই কাঠ পুড়িয়ে কয়লা তৈরী করা হয়। তবে তিনি এসব কাঠ বনবিভাগের নয় উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে পাইকারদের মাধ্যমে কেনা কাঠ বলে দাবি করেন তারা।

বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির ( বেলা) টাঙ্গাইল শাখার জ্যেষ্ঠ গভেষণা কর্মকর্তা সোমনাথ লাহিরী বলেন, বনের ১০ কিলোমিটারের মধ্যে করাতকলসহ বন ও পরিবেশ বিধ্বংসী কোনো কারখানা গড়ে তোলা বেআইনি। অবৈধ কয়লা কারখানার ধোঁয়া পরিবেশ ও জীববৈচিত্রের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলে এবং কালো ধোঁয়া থেকে নির্গত কার্বন স্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়ায় এসব কারাখানা গড়ে তোলা বেআইনী।

কারখানা থেকে ১০০ গজের মধ্যে আবদুল করিমের বাড়ি। তিনি বলেন, ‘দিনরাত কারাখানার ধোঁয়া ও গন্ধে বাড়িতে থাকা যায় না। পরিবারের প্রায় সকলেই কোন না কোন অসুখে আক্রান্ত হচ্ছি। বিশেষ করে কাশিতো আছেই।

কয়লা কিনতে আসা ব্যবসায়ী মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন , এখান থেকে কয়লা কিনে টাঙ্গাইল,ময়মনসিংহসহ আশপাশের জেলাগুলোতে কামার, কর্মকার ও হোটেল মালিকদের মাঝে সরবরাহ করি।

সংশ্লিষ্ট বিট কর্মকর্তা মো. এমরান আলী তাঁর বিরুদ্ধে আনিত সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ওইসব কারখানা উচ্ছেদের বিষয়ে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।

টাঙ্গাইল বন বিভাগের বিভাগীয় বন সংরক্ষক (ডিএফও) মো. হারুন অর রশিদ বলেন, কাঁঠ পুড়িয়ে কয়লা বানানোর দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের দায়িত্বে থাকা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আয়শা জান্নাত তাহেরা বলেন- অচিরেই ওইসব কয়লা কারখানা উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে।

সংবাদটি শেয়ার করতে এখানে ক্লিক করুন




All rights reserved © Prothom Kantho
Design BY Code For Host, Inc