শিক্ষিত ও অশিক্ষিত

শিক্ষিত ও অশিক্ষিত

এস এম জাকির হোসেন: সকালে উঠিয়া আমি মনে মনে বলি, সারাদিন আমি যেন ভালো হয়ে চলি। এই কবিতার লাইন ছোটবেলায় সবারই জানা। কিন্তু বাস্তবে আমরা কতটুকু পালন করি। সতীনাথ বসাক প্রণীত “বাল্যশিক্ষা” বইতে প্রথমেই অ-তে অসৎ সঙ্গ ত্যাগ কর এবং আ-তে আলস্য দোষের আকর। সুস্থ, সুন্দর ও সুশীল সমাজ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য এই দুটি বাক্যের অর্থ জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।

শিক্ষিত কিংবা অশিক্ষিত সবাই আমরা উপরোক্ত কথাগুলোর মর্ম জানি। কিন্তু দুঃখের বিষয় যারা ভালো লেখাপড়া করে সুশিক্ষিত হয়ে মানুষকে মানুষ মনে করিনা শুধু মনে করি আমি শিক্ষিত। এর পর কেউ বিভিন্ন অফিস, আদালত, সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত তারা কিন্তু এই দুটি বাক্যে থেকে সম্পূর্ণ সরে এসেছে। বর্তমানে সততা, নীতি ও আদর্শ বিসর্জন দিয়ে জনগণের টাকা আত্মসাৎ করার মাধ্যমে কিছু দুর্জন ব্যক্তি রক্তখেকো জোঁকে পরিণত হয়েছে। দেশে যত অন্যায়, অবিচার, ঘুষ-দুর্নীতি, বিচারহীনতা সবই হচ্ছে প্রশাসনের প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ মদদে। শিক্ষা মানুষকে আলোকিত করে। কিন্তু কোনো মানুষ যদি আচরণগত বা চরিত্রগতভাবে খারাপ হয় তবে সে শিক্ষিত হলেও সমাজের বা মানুষের উপকার করে না বরং ক্ষতি করে। দুর্জন বিদ্বান হলেও তার ভেতরের কু-প্রবৃত্তিগুলো তাকে খারাপ কাজের প্ররোচনা যোগায়। চারিত্রিক গুণাবলি বিদ্যার চেয়েও দামী। তাই প্রকৃত অর্থে দুর্জন বিদ্বানের চেয়ে চরিত্রবান অশিক্ষিত ব্যক্তি অনেক ভালো। যে শিক্ষা সাধারণ জনগণ, সমাজ ও দেশের জন্য কাজ করতে পারে না, সে শিক্ষা অর্থহীন ! যার ফলশ্রুতিতে সাধারণ জনগণ আজ রাস্তা- ঘাটে, পরিবহনে, অফিস,আদালত সর্বক্ষেত্রে দুর্বিষহ ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য অনিয়মকে নিয়মে পরিণত করেছে কিছু অসাধু ও লোভী কর্মকর্তা। দেশ পরিচালনা করে প্রশাসনের লোক তারা সবাই শিক্ষিত এবং উচ্চ শিক্ষিত। কৃষক, শ্রমিক, দিনমজুর, গরিব অসহায় মানুষদেরকে আমরা অশিক্ষিত বলে থাকি। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় এই যে, অশিক্ষিত লোকেরাই কখনো অন্যায় করে না, অন্যায়কে প্রশ্রয় দেয় না এবং সৎ পথে চলার চেষ্টা করে। যে শিক্ষা মানুষের সততা, আদর্শ, নৈতিকতা  মানবতা ও শিষ্টাচার বিসর্জিত হয় সে শিক্ষা মূল্যহীন, তাই নয় কি!

চরিত্রবান অশিক্ষিত মানুষের অনেক ভালো। তাই আমাদের দেশের অশিক্ষিত মানুষেরা খাঁটি মানুষ। আজ দেশে সততা, নিরপেক্ষতা ও মানবিকতার মানুষ বড়ই অভাব। তবে শিক্ষিত হওয়ার চেয়েও ভালো মানুষ হওয়া যে খুব বেশি প্রয়োজন এতে সন্দেহ নেই। কেননা, ‘দুর্জন বিদ্বান হলেও পরিত্যাজ্য।

সংবাদটি শেয়ার করতে এখানে ক্লিক করুন




All rights reserved © Prothom Kantho
Design BY Code For Host, Inc