শিরোনাম:
ড্রামের লেভেল পরিবর্তন করে বেশি দামে অ্যাডমিক্সার বিক্রির অভিযোগ ওমিক্রন ঠেকাতে ডাবল মাস্ক পরার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের নাগরপুরে কম্বল বিতরণ করলেন রিসোর্স টিচার(ইংরেজি বিভাগ) ডা.এম.এ.মান্নান নাগরপুরে মুকতাদির হোমিও চিকিৎসা কেন্দ্রের উদ্যোগে শীত কম্বল বিতরণ টাংগাইলে দৈনিক সংগ্রাম উপজেলা সংবাদদাতাদের নিয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত সখীপুরে সাংবাদিক মামুনকে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ডের সংবর্ধনা সখীপুরে উদ্বেগজনক ভাবে বেড়েই চলেছে মোটরসাইকেল দিয়ে ছিনতাই টাঙ্গাইলে দুই ট্রাকের সংঘ‌র্ষে আগুন, চালকসহ দগ্ধ ২ ৩৩ জনের মরদেহ সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে :: নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৪০ দেশকে মুক্ত করতে হবে : মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
আলোচিত এসপি হারুনের বিরুদ্ধে যত অভিযোগ

আলোচিত এসপি হারুনের বিরুদ্ধে যত অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক:

নারায়ণগঞ্জের আলোচিত এসপি হারুন অর রশিদকে পুলিশ অধিদপ্তরে বদলি করা হয়েছে। রোববার (৩ নভেম্বর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে বদলি করে তাকে পুলিশ অধিদপ্তরে পুলিশ সুপার (টিআর) পদে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

গতকাল প্রভাবশালী এই পুলিশ কর্মকর্তাকে বদলি করার পর নারায়ণগঞ্জে দেখা দেয় মিশ্র প্রতিক্রিয়া। হারুনের বিদায়ে নারায়ণগঞ্জে অনেকেই ব্যাপক খুশি ও উচ্ছ্বাস প্রকাশ করলেও কেউ কেউ তার বদলিতে মনঃক্ষুণ্নও হয়েছেন।

আলোচনা শুরু ২০১১ সালের ৬ জুলাই। জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় তখনকার বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুকের নেতৃত্বে একটি মিছিল বের হয়। সেই মিছিলে ফারুককে পিটিয়ে আলোচনায় আসেন এসপি মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ।

এরপর তার বিতর্কিত কর্মকাণ্ড সামনে আসতে থাকে, যা এখনও বিদ্যমান। ২০১৬ সালে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের সময় তিনি গাজীপুরের এসপি ছিলেন। তখন তার বিতর্কিত ভূমিকা নিয়ে আপত্তি জানায় বিএনপি। ওই নির্বাচনের সময় কিছুদিনের জন্য তাকে সেখান থেকে প্রত্যাহার করা হয়। পরে আবার তাকে সেখানেই দায়িত্ব দেয়া হয়।

গাজীপুর সিটি নির্বাচনের সময়ও বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীদের ধরপাকড়ের অভিযোগ উঠে এসপি হারুনের বিরুদ্ধে। সে-সময় নির্বাচন কমিশন থেকে তখন তাকে পরোয়ানা ছাড়া কাউকে গ্রেফতার না করার জন্যও বলা হয়।

এই বহুল আলোচিত এসপি হারুনকে সর্বশেষ নারায়ণগঞ্জ থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ সদর দফতরের টিআর পদে সংযুক্ত করা হয়েছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) থেকে গত বছরের ২ ডিসেম্বর নারায়ণগঞ্জের এসপি হিসেবে তাকে বদলি করা হয়েছিল। বছরপূর্তির এক মাস আগে তাকে নারায়ণগঞ্জ থেকে প্রত্যাহার করা হলো। রোববার রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব ধনঞ্জয় কুমার দাস স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ বদলি করা হয়।

হারুনের বিরুদ্ধে অভিযোগ, চাঁদার জন্য তিনি নারায়ণগঞ্জের একাধিক শিল্পপতিকে তুলে নিয়ে সাজানো মামলায় গ্রেফতার দেখানোর ভয় দেখিয়েছেন।

জানাযায়, নারায়ণগঞ্জের ক্ষমতাধর সংসদ সদস্য (এমপি) শামীম ওসমানের সঙ্গে প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য দ্বন্দ্ব ও বিরোধপূর্ণ বক্তব্য এবং কর্মকাণ্ডে সবচেয়ে আলোচিত হন এসপি হারুন। ক্ষমতাধর এমপি এবং প্রভাবশালী পুলিশ কর্মকর্তার প্রকাশ্য বিরোধের কারণে নারায়ণগঞ্জে এসপি হারুনকে ‘বাংলার সিংঘাম’ বলেও প্রচার করা হয়েছিল। প্রথমদিকে হারুন নারায়ণগঞ্জের বিতর্কিত ক্ষমতাধর বেশকিছু রাজনৈতিক নেতাকে ‘কুপকাত’ করায় সাধারণ মানুষের কাছে বেশ জনপ্রিয়তা লাভ করেন। এমপি শামীম ওসমানও এক পর্যায়ে এসপি হারুনের সঙ্গে সমঝোতা করতে বাধ্য হন বলেও শোনা যায়।

তবে সম্প্রতি কিছুদিন ধরে নারায়ণগঞ্জকেন্দ্রিক বেশকিছু শিল্প বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে টার্গেট করে চাঁদাবাজিসহ নানা তৎপরতা চালাচ্ছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে। চাঁদা না পেলেই ওইসব প্রতিষ্ঠান বা ব্যবসায়ীকে নাজেহাল করা হতো বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সর্বশেষ পারটেক্স গ্রুপের চেয়ারম্যানের ছেলে আম্বার গ্রুপের কর্ণধার শওকত আজিজ রাসেলের কাছেও আট কোটি টাকা চাঁদা চেয়েছিলেন বলেও এই ব্যবসায়ী তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে অভিযোগ করেন। সেই টাকা না দেওয়ায় গুলশানে রাসেলের বাসায় গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে তার স্ত্রী-পুত্রকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয় নারায়ণগঞ্জে।

নিউজ বাংলাদেশ ডটকম নামে একটি অনলাইন নিউজপোর্টালের সংবাদের সূত্র মতে, ‘পারটেক্স গ্রুপের চেয়ারম্যান এমএ হাশেমের ছেলে শওকত আজিজ রাসেলের প্রতিষ্ঠান আম্বার ডেনিমের কাছে ৮ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করেন এসপি হারুন। দাবি করা টাকা না দেওয়ায় গত শুক্রবার রাতে বাসায় ঢুকে আম্বার গ্রুপের কর্ণধার শওকত আজিজ রাসেলের স্ত্রী ও পুত্রকে তুলে নিয়ে যান নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার হারুন-অর-রশীদ।

এছাড়া ঢাকা ক্লাব থেকে তার ব্যক্তিগত গাড়িটিও জব্দ করে নিয়ে গেছেন এসপি হারুন। সেই গাড়ি থেকেই পরে অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার করা হয়েছে বলে সংবাদ প্রকাশ করান এসপি হারুন।’ ব্যবসায়ী রাসেলের স্ত্রী ও পুত্রকে নিয়ে যাওয়া সংক্রান্ত একটি ভিডিও ফুটেজও প্রকাশ করা হয়েছে ওই নিউজপোর্টালে। গুলশান ক্লাবের সভাপতি ব্যবসায়ী রাসেল সেখানে আরও অভিযোগ করেন, তার কাছে দীর্ঘদিন ধরেই চাঁদা দাবি করে আসছেন এসপি হারুন।

গত ৩ মে সন্ধ্যায় এসআই আজহারুল ইসলামের মাধ্যমে এসপি হারুন আম্বার ডেনিমের স্টোর ম্যানেজার ইয়াহইয়া বাবুর কাছে প্রথমে মোবাইলে এই চাঁদা দাবি করেন। সে সময় আজহার বলেন, এসপি হারুন সাহেব এইমাত্র আমাকে ফোন করেছেন। উনি বলেছেন, আম্বার গ্রুপের চেয়ারম্যানের লোকজনকে ডাকাও। আমার টাকা লাগবে। তাড়াতাড়ি ৮ কোটি টাকা পাঠাও। এরপর গত ৫ মে হারুনের বিরুদ্ধে পুলিশ মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) কাছে লিখিত অভিযোগ করেন শওকত আজিজ রাসেল। তবে এসব অভিযোগ প্রসঙ্গে কথা বলার জন্য এসপি হারুন, ঢাকার রেঞ্জের ডিআইজি ও পুলিশ সদর দফতরের এআইজি (মিডিয়া) এর সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সংবাদটি শেয়ার করতে এখানে ক্লিক করুন




All rights reserved © Prothom Kantho
Design BY Code For Host, Inc