বাবরি মসজিদ মামলার আইনি লড়াই

বাবরি মসজিদ মামলার আইনি লড়াই

Spread the love

প্রথম কন্ঠ ডেস্ক:

অবশেষে নিষ্পত্তি হলো ৭০ বছর ধরে চলে আসা বহুল প্রতীক্ষিত বাবরি মসজিদ মামলার আইনি লড়াইয়ের। রায় অনুযায়ী, অযোধ্যায় ২.৭৭ একর জমি হিন্দু সংগঠনকে দিতে হবে মন্দিরের জন্য। আর সুন্নি ওয়াকফ বোর্ডকে অযোধ্যায় অন্যত্র ৫ একর জমি দিতে হবে মসজিদ তৈরীর জন্য।

৪০ দিনের ম্যারাথন শুনানির পর শনিবার (৯ নভেম্বর) বাংলাদেশ সময় বেলা পৌনে ১২টার দিকে ভারতের প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গাগৈ’র নেতৃত্বে সুপ্রিম কোর্টের ৫ সদস্যের একটি বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন। বেঞ্চের অন্য ৪ সদস্য হলেন- বিচারপতি শারদ অরবিন্দ, ডিওয়াই চন্দ্রচূড়, অশোক ভূষণ ও আব্দুল নাজির। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম থেকে এ তথ্য জানা যায়।

মামলার মুসলিম পক্ষ ‘সুন্নি ওয়াকফ বোর্ড’র আইনজীবী জানিয়েছেন, আদালতের রায়ের ব্যাপারে তাদের শ্রদ্ধা রয়েছে। কিন্তু এতে তারা সন্তুষ্ট নন।

অযোধ্যায় মন্দির বানাতে তিন মাসের মধ্যে ট্রাস্ট গঠনের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারকে নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। এই ঐতিহাসিক রায় দিতে গিয়ে আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া (এএসআই) এর রিপোর্টকে গুরুত্ব দিয়েছে সর্বোচ্চ আদালত।

এএসআই-এর রিপোর্টে বলা হয় যে খালি জমিতে বাবরি মসজিদ তৈরি হয়নি। মসজিদের নীচে কাঠামোর সন্ধান পাওয়া গেছে এবং এই কাঠামো ইসলামিক স্থাপত্য নয়। তবে মন্দির ভেঙেই যে মসজিদ তৈরি হয়েছে এমন কোনও প্রমাণ এএসআই উপস্থাপন করতে পারেনি।

বিবিসি জানায়, রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে ওই অঞ্চলের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে। সেই সঙ্গে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে সেখানকার সবগুলো সড়ক।

সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে প্রাদেশিক পুলিশ প্রধান ওম প্রকাশ সিং জানান, রায় নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে কোনো ধরনের বিদ্বেষমূলক মন্তব্যের ব্যাপারে বিশেষ পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

এদিকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও রায় ঘিরে জনগণকে শান্ত ও আদালতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

৯ বছর আগে অযোধ্যা মামলায় যে রায় দিয়েছিল এলাহাবাদ হাইকোর্ট-

২০১০ সালের অযোধ্যা মামলার রায়ে এলাহাবাদ হাইকোর্ট ঘোষণা করে, বিতর্কিত রাম জন্মভূমি ও বাবরি মসজিদ সংলগ্ন চত্বর তিনভাগে সমবণ্টিত হবে। রায়ে বলা হয়েছিল, ২.৭৭ একর জমি ভাগ হবে তিন পক্ষের মধ্যে। এই ভাগের তিন ভাগের এক অংশ যাবে রামলালা অনুকূলে। যার প্রতিনিধিত্ব করছে হিন্দু মহাসভা।আরও তিন ভাগের এক অংশ পাবে সুন্নি ওয়াকফ বোর্ড। বাকি তিন ভাগের এক অংশ পাবে নির্মোহী আখড়া।

সেই রায়কেই চ্যালেঞ্জ করা হয় সুপ্রিম কোর্টে। ২০১১ সালে এলাহাবাদ হাইকোর্টের রায়ে স্থগিতাদেশ জারি করে সুপ্রিম কোর্ট।

১৫২৮ সাল থেকে ২০১৯: রাম মন্দির-বাবরি মসজিদ বিতর্কের ইতিহাস-

১৫২৮ খ্রিস্টাব্দে অযোধ্যায় তৈরি হয় বাবরি মসজিদ। হিন্দুদের কিছু সংগঠন দাবি করতে শুরু করে মন্দির গুঁড়িয়ে দিয়ে সেখানে তৈরি হয়েছে এই মসজিদ। ১৮৫৩ সালে প্রথম এই ইস্যুতে বিরোধ বাঁধে।

১৮৫৯ সালে ব্রিটিশরা একটি প্রাচীর দিয়ে হিন্দু ও মুসলিমদের প্রার্ধনার জায়গা আলাদা করে দেয়। এভাবেই ৯০ বছর ধরে প্রার্থনা চলে।

১৯৪৯ সালে প্রথম এই জমি সংক্রান্ত মামলা আদালতে যায়। সেই সময় রামের মূর্তি স্থাপন করা হয় মসজিদের ভিতরে।

১৯৮৪ সালে রাম মন্দির গড়ার দাবি নিয়ে হিন্দুদের একটি কমিটি তৈরি হয়। তিন বছর বাদে একটি জেলা আদালত নির্দেশ দেয়, যাতে ওই বিতর্কিত এলাকা হিন্দুদের প্রার্থনার জন্য খুলে দেওয়া হয়। মুসলিমরা তৈরি করে বাবরি মসজিদ অ্যাকশন কমিটি।

এরপর ১৯৮৯ সালে মন্দিরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয় ওই স্থানে।

১৯৯০ সালে রাম মন্দির তৈরির সমর্থনে রথযাত্রা করেন এল. কে. আদভানী।

১৯৯২ সালে বাবরি মসজিদ ধ্বংস করে দেয় কিছু হিন্দুত্ববাদী সংগঠন। দেশজুড়ে দাঙ্গা পরিস্থিতি তৈরি হয়। ১০ দিন বাদে তৈরি হয় তদন্ত কমিটি। ১৭ বছর পর ২০০৯ সালে সেই কমিটি রিপোর্ট জমা দেয়। সেই রিপোর্টে আদভানী, বাজপেয়ীসহ ১৭ জনের নাম ছিল।

২০০২ সালে এপ্রিলে এলাহাবাদ হাইকোর্টে অযোধ্যার বিতর্কিত জমি কার, তা নিয়ে শুনানি শুরু হয়।

২০১০ সালে রায় প্রদান করে হাইকোর্ট। সেখানে এই জমি তিন ভাগে ভাগ করে নির্মোহী আখড়া, রাম লাল্লা ও সুন্নি সেন্ট্রাল ওয়াকফ বোর্ডকে দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়। এই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে যায় হিন্দু ও মুসলিম দুই পক্ষই।

২০১১ সালে এলাহাবাদ হাইকোর্টের রায়ে স্থগিতাদেশ দেয় সুপ্রিম কোর্ট।

২০১৯ সালে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি রঞ্জয় গগৈ-এর নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের ডিভিশন বেঞ্চ গত ৬ আগস্ট থেকে টানা ৪০ দিন শুনানির পর ১৬ অক্টোবর তা সম্পূর্ণ হয়।

সুত্র: [উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম]

সংবাদটি শেয়ার করতে এখানে ক্লিক করুন




All rights reserved © Prothom Kantho
Design BY Code For Host, Inc