যতই টাকা কামাও, সুখ আসবে না : প্রধানমন্ত্রী

যতই টাকা কামাও, সুখ আসবে না : প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

টাকা বানানোকে রোগ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, টাকা কামানো একটি রোগ, এটা একটা ব্যারাম। ছেলে-মেয়ে মাদকাসক্ত হবে, বিপথে যাবে, দেখার সময় নেই, টাকার পেছনে ছুটছে তো ছুটছে। যতই টাকা কামাও, সুখ আসবে না।

তিনি বলেন, অবৈধ পথে টাকা কামালে সামনে সালাম দেয়, কিন্তু পেছনে ঠিকই একটা গালি দেয়।

শনিবার(৩০ নভেম্বর) রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, অবৈধ টাকা বানিয়ে ভোগ-বিলাস করবে আর যে সৎভাবে আয় করে জীবনযাপন করে তারা মুখ লুকিয়ে থাকবে এটা হতে দেওয়া যাবে না। জনগণের টাকায় কাউকে ভোগ-বিলাস করতে দেওয়া হবে না। আজকে সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও মাদকের বিরুদ্ধে যে অভিযান শুরু হয়েছে, তা অব্যাহত থাকবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, যারা ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন করেছে তাদের মুখে নির্বাচন নিয়ে কথা বলা মানায় না। বিএনপি সরকারের সময় বাংলাদেশ দুর্নীতি, জঙ্গি ও মানি লন্ডারিংয়ের জন্য পরিচিতি পেয়েছিল।

এর আগে আজ বেলা ১১টার দিকে পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন উদ্বোধন করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।

এর পরই সম্মেলন মঞ্চে বাঙালি সংস্কৃতি তুলে ধরে পরিবেশন করা হয় নাচ ও গান। এ ছাড়া মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদকরা তাদের প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন।

সম্মেলন উপলক্ষে সকাল থেকেই ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণের নেতাকর্মীরা সভাস্থলে জড়ো হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, এতিমের টাকা আত্মসাতের কারণে খালেদা জিয়ার সাজা হয়েছে। সেই সাজায় আজ তিনি কারাগারে। এটা কোনো রাজনৈতিক মামলা না। অনেকেই এটাকে রাজনৈতিক বলে চালানোর চেষ্টা করে।

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘দলের আন্দোলন-সংগ্রামে মহানগর আওয়ামী লীগ সব সময় সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছে। যেহেতু আওয়ামী লীগ আন্দোলন সংগ্রামের দল।’

এ সময় প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ‘বিএনপি ধ্বংস করতে পারে, সৃষ্টি করতে পারে না। তারা মানুষকে শান্তি দিতে পারে না। তারা নিজেদের নিয়ে ব্যস্ত। আমরা জনগণের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছি। বিএনপি আর খালেদা জিয়া ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় এই ঢাকাসহ সারা দেশে পানির অভাব। বিদ্যুতের জন্য হাহাকার। তার নেতা-মন্ত্রীরাই ধাওয়া খেয়েছিল বিদ্যুৎ দিতে না পেরে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা বিরোধী দলে থাকাকালে খালেদা জিয়া যখন ক্ষমতায় ছিল, আমাদের নেতাকর্মীদের হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে মেরেছে, বাড়িঘর পুড়িয়ে দিয়েছে। বিএনপির সময় বাংলাদেশ একদিকে জঙ্গিবাদের, অন্যদিকে ঘুষ-দুর্নীতির দেশে পরিণত হয়েছিল।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ঢাকার চেহারা পাল্টে যাচ্ছে। উন্নয়নের ছোয়া ঢাকা শহরে লেগেছে। যে কেউ ঢাকায় আসলে এটা দেখতে পাবেন। আজকে ঢাকায় যতটা পানি প্রয়োজন তার থেকেও বেশি উৎপাদন করে পানি সরবরাহ করে যাচ্ছি।’

শেখ হাসিনা আরো বলেন, ‘এই ঢাকা শহরে কোনো সরকারি স্কুল ছিল না। আমরা ১১টি স্কুলসহ বেশকিছু কলেজ সরকারি করা হয়েছে। শিশুরা যাতে ভালমতো শিক্ষা নিতে পারে, চিকিৎসা পেতে পারে আমরা সেজন্য ব্যবস্থা নিচ্ছি। ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ যাতে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয় সেলক্ষ্যে আমরা কাজ করছি।’

তিনি বলেন, ‘৭৫ সালের পর এই জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় আসার পর কত আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের হত্যা করা হয়েছে। জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যার পর খুনিদেরকে বিদেশে বিভিন্ন পদে বসিয়েছিল। খুনি, স্বাধীনতাবিরোধীদের পুরস্কৃত করেছিল বিএনপি সরকার। তেমনিভাবে জেনারেল এরশাদও খুনিদের রাজনীতি করার সুযোগ দিয়েছিল।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়া একটি সাজানো নির্বাচন করেছিলেন। যে নির্বাচনে কোনো দল অংশগ্রহণ করেনি। ভোট চুরি করে ফলাফল ঘোষণা করে খুনি রশিদকে জিতিয়ে এনেছিল খালেদা জিয়া। এমন নির্বাচন যে করে তাঁর মুখে নির্বাচন নিয়ে কথা বলা মানায় না। কিন্তু খালেদা জিয়া সেই ক্ষমতায় থাকতে পারেনি সেদিন। ১৫ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন হয় আর ৩০ মার্চ ক্ষমতা ছেড়ে দিতে হয়েছিল। সেই সময় কথাই ছিল, ১০টা হোন্ডা, ২০টা গুন্ডা, নির্বাচন ঠাণ্ডা।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় মোহাম্মদ হানিফ আমাকে এমনভাবে ধরেছিলেন, গ্রেনেডের যতগুলো স্প্লিন্টার আমার গায়ে লাগত সব তাঁর গায়ে লেগেছিল, আজ তিনি আমাদের মাঝে নেই।’

এ সময় তিনি মোহাম্মদ সুলতান, এম এ আজিজসহ অন্য প্রয়াত নেতাদের স্মরণ করে তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন।

সংবাদটি শেয়ার করতে এখানে ক্লিক করুন




All rights reserved © Prothom Kantho
Design BY Code For Host, Inc