রুম্পা মৃত্যুরহস্য তদন্তে পুলিশ

রুম্পা মৃত্যুরহস্য তদন্তে পুলিশ

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরীতে স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী রুবাইয়াত শারমিন রুম্পার মৃত্যু নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে নানা ধুম্রজাল। তদন্ত করতে গিয়ে নানাবিদ প্রশ্ন সামনে নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক টিমের সদস্যরা।

রুম্পাকে কে বা কারা ভবনের ছাদ থেকে ফেলে দিয়ে হত্যা করেছে, নাকি হত্যার পর তাকে ছাদ থেকে ফেলে দেয়া হয়েছে। মৃত্যুর আগে রুম্পা কি ধর্ষণের শিকার হয়েছিলেন, নাকি তিনি নিজেই ছাদে লাফিয়ে পড়ে আত্মহত্যা করেছেন। আর যদি আত্মহত্যাই করে থাকেন তাহলে কেন করেছেন। সিদ্দেশ্বরীর কোন ভবনের ছাদ থেকে তিনি নিচে পড়েছিলেন, ওই ভবনে তিনি কেন গিয়েছিলেন বা কে তাকে সেখানে নিয়ে গিয়েছিলো।

এমনসব প্রশ্ন সামনে রেখে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশের একাধিক টিম। পরিবারের সদস্যরাও বিষয়টি নিয়ে নিশ্চিত হতে পারছে না।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে ঢাকা মহানগর পুলিশের রমনা বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) সাজ্জাদুর রহমান বলেন, ‘আমরা এখন পর্যন্ত বলার মতো কিছু পাইনি। তবে রুম্পা হত্যার শিকার হয়েছেন, এমন সন্দেহে পুলিশ বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেছে। হত্যা সন্দেহেই তদন্ত প্রাথমিক কাজ চলছে’।

তিনি বলেন, ‘ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন ও ধর্ষণ হয়েছেন কি না এমন এক্সপার্ট অপিনিয়ন (মতামত) পাওয়ার পর মামলা ডিটেকশন হবে। সে পর্যন্ত আমাদের অপেক্ষা করতে হচ্ছে। আমরা এখনও কাউকে আটক করিনি। জিজ্ঞাসাবাদও করিনি। যদি নিহতের কোনো বয়ফ্রেন্ড থাকে তাহলে তাকে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।’

অন্যদিকে ঘটনার ছায়া তদন্ত করছেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি দক্ষিণ বিভাগ)।

ডিবি দক্ষিণের উপ-কমিশনার (ডিসি) রাজিব আল মাসুদ বলেন, ‘ঘটনাটি চাঞ্চল্য ছড়ানোর পর ছায়া তদন্ত শুরু করেছে গোয়েন্দা দক্ষিণ বিভাগ। তবে এখন পর্যন্ত বিশেষ কিছু মেলেনি। আসলে সুইসাইড নাকি, হত্যা সেটা আগে নিশ্চিত হওয়া জরুরি। তাছাড়া অন্যান্য আলামত পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়ার পর স্পষ্ট হবে মোটিভ।’

অন্যদিকে রমনা থানার ওসি মনিরুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, ‘যে স্থান থেকে মরদেহ আমরা উদ্ধার করেছি, তার আশপাশের কোনো ভবনে থাকত না নিহত রুম্পা। রুম্পা থাকত শান্তিবাগে। স্বভাবত, সন্দেহ জোরালো হয় যে, রুম্পা হত্যার শিকার হয়েছেন। তবে সেটাও তথ্য প্রমাণ সাপেক্ষ। রুম্পাকে হত্যার পর এখানে আনা হয়েছে, নাকি কোনো ভবন থেকে ফেলে দেয়া হয়েছে অথবা উপর থেকে সে সুইসাইড করার উদ্দেশে লাফিয়ে পড়েছে তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। আমরা আশপাশের সিসিটিভির ফুটেজ সংগ্রহ করেছি। কিন্তু তাতে বিশেষ সাহায্য পাইনি। ঘটনা সংশ্লিষ্ট ফুটেজ মেলেনি। তবে ঘটনা জানার চেষ্টা করতেছি। কাউকে আটক না করলেও কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। আশা করছি, খুব দ্রুত পুরো ঘটনাটা স্পষ্ট হবে।’

এদিকে রুম্পাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করছে তার সহপাঠীরা। তাই হত্যকারী ধর্ষকের বিচার চেয়ে শুক্রবার মানববন্ধন করেছেন তারা।

নিহত রুম্পার চাচা নজরুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, রুম্পার সাথে স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটির একটি ছেলের সম্পর্ক ছিল। সম্প্রতি তাদের সম্পর্ক ভালো যাচ্ছিল না বলে আমরা জানতে পেরেছি। ওই ছেলেটি কে তা জানার চেষ্টা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, রুম্পা পাশের একটি ভবনে টিউশনি করতে গিয়েছিল। সেখান থেকে ফিরে নিজেদের শান্তিবাগের বাসার নিচে এসে তার চাচাত ভাইকে ফোন করে বাসা থেকে একজোড়া স্যান্ডেল নিয়ে আসতে বলে। স্যান্ডেল আনার পর ওই চাচাত ভাইয়ের কাছে পায়ের জুতা, কানের দুল, ঘড়ি ও টাকাসহ ব্যাগ দিয়ে দেয়।

যাবার সময় তার মাকে বলতে বলে ‘ তার বাসায় ফিরতে দেরি হবে। নজরুল ইসলাম প্রশ্ন তুলে বলেন, রুম্পা যদি আত্মহত্যাই করবে তাহলে নিজের বাসার ছাদ থেকে লাফিয়ে আত্মহত্যা করেনি কেন। নাকি কোন ঝামেলা ছিলো যার কারণে এগুলো বাসায় রেখে গিয়েছিলো। ঝামেলা থাকলে সেটি কি ছিল।

বুধবার(০৪ ডিসেম্বর) রাত পৌনে ১১টার দিকে সিদ্ধেশ্বরীর ৬৪/৪ নম্বর বাসার নিচে স্টামফোর্ট ইউনিভার্সিটির ওই ছাত্রীর লাশ পড়ে থাকতে দেখা যায়। যে জায়গায় এ ঘটনা, তার আশপাশে বেশকিছু ছেলে ও মেয়েদের হোস্টেল রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

রুম্পার বাবা রোকন উদ্দিন হবিগঞ্জ এলাকায় পুলিশ ইন্সপেক্টর হিসেবে কর্মরত। তাদের বাড়ি ময়মনসিংহ জেলায় হলেও বর্তমানে রাজধানীর মালিবাগ শান্তিবাগ এলাকায় থাকতেন।

সংবাদটি শেয়ার করতে এখানে ক্লিক করুন




All rights reserved © Prothom Kantho
Design BY Code For Host, Inc