১১ ডিসেম্বর টাঙ্গাইল শহর সম্পূর্ণ হানাদারমুক্ত

১১ ডিসেম্বর টাঙ্গাইল শহর সম্পূর্ণ হানাদারমুক্ত

Spread the love

নিজস্ব প্রতিবেদক : ১১ ডিসেম্বর টাঙ্গাইল শহর সম্পূর্ণ হানাদারমুক্ত হয় এবং স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করা হয়। মুক্তির আনন্দে ওই দিন হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে আসে। জয় বাংলা-জয় বঙ্গবন্ধু স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে টাঙ্গাইল। ৪৮ বছর আগে এই দিনটি টাঙ্গাইলবাসীর জন্য এনেছিল বিজয়ের বার্তা। দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর পাকবাহিনীর আত্মসমর্পন ও পলায়নের মধ্য দিয়ে মুক্ত হয়েছিল টাঙ্গাইল।

এর আগে সারারাত মুক্তিযোদ্ধাদের সারাশি আক্রমণ আর প্রচণ্ড গোলাগুলিতে বিনিদ্র রাত কাটায় শহর ও শহরতলির লোকজন। অবশেষে সেই কাঙ্ক্ষিত দিন ও মুহূর্তটি আসে। ধ্বংসস্তুপের মধ্যেই হাজার হাজার উৎফুল্ল জনতা রাস্তায় নেমে আসে এবং মুক্তির আনন্দকে স্মরণীয় করে তুলে। যুদ্ধকালীন সময় টাঙ্গাইলের অকুতোভয় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সাহসিকতাপূর্ণ কাহিনী দেশের সীমানা পেরিয়ে বিদেশেও ছড়িয়ে পড়েছিল। বীর মুক্তিযোদ্ধা কাদের সিদ্দিকীর নেতৃত্বে গঠিত ‘কাদেরিয়া বাহিনীর’ বীরত্বের কথা দেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাসে চিরস্মরণীয়।

এপ্রিল থেকে ৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত টাঙ্গাইল, জামালপুর, শেরপুর, কিশোরগঞ্জ, সিলেট, সিরাজগঞ্জ ও পাবনায় কাদেরিয়া বাহিনী যুদ্ধ চালিয়ে পাকসেনাদের পর্যুদন্ত করে। এ যুদ্ধে ৩ শ’ দেশপ্রেমিক ও অকুতোভয় মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন। মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে টাঙ্গাইল অঞ্চলের প্রধান কাদের সিদ্দিকী সখীপুরের মহানন্দা ও কীর্ত্তনখোলায় গড়ে তুলের দুর্ভেদ্য দূর্গ। এরপর আক্রমণের মুখে পাকসেনারা গুটিয়ে জেলার অন্যান্য স্থান থেকে এসে যখন টাঙ্গাইল শহরে অবস্থান নেয় তখন উত্তর ও দক্ষিণ টাঙ্গাইল ছিল সম্পূর্ণ মুক্তিবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে। ৮ ডিসেম্বর টাঙ্গাইল আক্রমণের পরিকল্পনা করা হয়। মিত্র বাহিনীর সঙ্গে পাকসেনাদের পুংলি নামক স্থানে সংর্ঘষ হয়। অবস্থা বেগতিক দেখে প্রাণ ভয়ে পাকসেনারা টাঙ্গাইল ছেড়ে ঢাকার দিকে পালিয়ে যায়। পরিকল্পনা অনুযায়ী চারদিক থেকে সারাশি আক্রমণ চালিয়ে পাক সেনাদের টাঙ্গাইল থেকে বিতারিত করতে সক্ষম হয় কাদেরিয়া বাহিনী। ১০ ডিসেম্বর রাতে টাঙ্গাইল প্রবেশ করেন কমান্ডার আব্দুর রাজ্জাক ভোলা। ১১ ডিসেম্বর সকালে কমান্ডার বায়োজিদ ও খন্দকার আনোয়ার টাঙ্গাইল পৌঁছান। এরপর আসেন বিগ্রেডিয়ার ফজলুর রহমান। পরে সার্কিট হাউসে অবস্থানরত পাক সেনাদের কাদের সিদ্দিকীর কাছে আত্মসমর্পনের মধ্যে দিয়ে সম্পূর্নভাবে মুক্ত হয় টাঙ্গাইল। স্বাধীনতার পর এ দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করে টাঙ্গাইলবাসী।

এ উপলক্ষ্যে টাঙ্গাইল পৌরসভা ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৬ দিনব্যাপী হানাদারমুক্ত দিবস ও বিজয় দিবস উদযাপনের আয়োজন করেছে। বুধবার সকাল ১১টার দিকে বর্ণাঢ্য শোভাত্রার মাধ্যমে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করবেন টাঙ্গাইল জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফজলুর রহমান খান ফারুক। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক (এমপি), বিশেষ অতিথি থাকবেন টাঙ্গাইল সদর-৫ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ মো. ছানোয়ার হোসেন এমপি ও দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের নির্বাহী সম্পাদক পীর হাবিবুর রহমান। আলোচক থাকবেন টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ন-সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আশরাফউজ্জামান স্মৃতি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা খন্দকার আনোয়ার হোসেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন টাঙ্গাইল হানাদারমুক্ত ও বিজয় দিবস উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক এবং টাঙ্গাইল পৌরসভার মেয়র জামিলুর রহমান মিরন। প্রথম দিনের মতো অন্য দিনগুলোতেও জেলার বিভিন্ন আসনের সংসদ সদস্য ও আলোচকরা উপস্থিত থাকবেন। এছাড়া দেশবরেণ্য রাজনীতিক, বুদ্ধিজীবী, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সম্মানীত ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে আলোচনা সভা এবং দেশ বিদেশের প্রখ্যাত শিল্পীদের অংশগ্রহণে সংগীতানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করতে এখানে ক্লিক করুন




All rights reserved © Prothom Kantho
Design BY Code For Host, Inc