২০২০ সালে ১৪ হাজার মুক্তিযোদ্ধাকে বাড়ি দেওয়া হবে: মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী

২০২০ সালে ১৪ হাজার মুক্তিযোদ্ধাকে বাড়ি দেওয়া হবে: মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক:

‘আগামী জুলাই থেকে মুক্তিযোদ্ধা ভাতা ১৫ হাজার টাকা হবে। ২০২০ সালে প্রথম পর্যায়ে ১৪ হাজার অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাকে এক হাজার বর্গফুটের বাড়ি নির্মাণ করে দেওয়া হবে। একই ডিজাইনের প্রতিটি বাড়ির জন্য ব্যয় হয় ১৬ লাখ টাকা। পরের বছর সমসংখ্যক বাড়ি দেওয়া হবে। এরমধ্যে বগুড়ার মুক্তিযোদ্ধারা প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ে ৪৫০টি বাড়ি পাবেন। তবে যারা বিনাসুদে ১৫ লাখ টাকা ঋণ নেবেন, তারা বাড়ি পাবেন না। সরকারি খরচে প্রতিটি মুক্তিযোদ্ধার কবর একই নকশায় পাকা করে দেওয়া হবে।’

বুধবার (২৫ ডিসেম্বর) বিকালে বগুড়া শহরের নিশিন্দারা কারবালা এলাকায় বগুড়া সদর, আদমদীঘি ও গাবতলী উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন উদ্বোধনের পর সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ. ক. ম. মোজাম্মেল হক এমপি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী আরও বলেন, ‘বগুড়ার তালিকায় কোনও ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা ও ভুয়া বীরাঙ্গনা থাকলে যাচাইয়ের মাধ্যমে তা বাতিল করা হবে। ১৬ ডিসেম্বর মুক্তিযোদ্ধাদের পরিচয়পত্র দেওয়া সম্ভব হয়নি; তবে জানুয়ারিতে অবশ্যই দেওয়া হবে। মুক্তিযোদ্ধারা সরকারি যানবাহনে ফ্রি চলাচল করতে পারবেন। এছাড়া সরকারি হাসপাতালগুলোতে টাকা জমা দেওয়া হয়েছে, মুক্তিযোদ্ধারা সেখানে ফ্রি চিকিৎসা পাবেন।’

তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু দীর্ঘ ২৪ বছর আন্দোলন-সংগ্রাম করে দেশকে স্বাধীনতার ঘোষণার জন্য প্রস্তুত করেছিলেন। ৭ মার্চের ভাষণে সরাসরি স্বাধীনতা ঘোষণা দিলে বিশ্ববাসী তাকে দোষারোপ করতেন। তারা বলতেন, ইয়াহিয়া খান সংসদে বসতে দিচ্ছেন না বলেই তিনি (বঙ্গবন্ধু) এমনটা করছেন। তাই তিনি কৌশলে সেদিন স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। আর তিনি ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে ইপিআরের মাধ্যমে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। অথচ যারা জেগে থেকে ঘুমায় তারা অন্যজনকে কৃতিত্ব দেয়।’

মন্ত্রী আরও বলেন, ‘জেড ফোর্সের অধিনায়ক জিয়াউর রহমান মুক্তিযুদ্ধ করলেও এর চেতনার সঙ্গে থাকেননি। তিনি বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনিদের বিভিন্ন দেশে বড় বড় পদে অধিষ্ঠিত করেছিলেন। একটা গরুচোর মারলেও তার হত্যার বিচার হয়। কিন্তু জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে হত্যার বিচার বন্ধে ইনডেমনিটি অ্যাক্ট করেছিলেন। জিয়া নিষিদ্ধ জামায়াতে ইসলামীকে রাজনীতি করার সুযোগ ও গোলাম আযমের নাগরিকত্ব ফিরিয়ে দেন। তিনি স্বাধীনতাবিরোধী শাহ আজিজ, আবদুল আলিমসহ রাজাকারদের মন্ত্রী করেছিলেন। এতে বুঝতে হবে তিনি (জিয়া) কোন পক্ষে ছিলেন’

তিনি বলেন, ‘নতুন প্রজন্ম জানে না পাকিস্তানি হানাদাররা এ দেশের মানুষের ওপর কী নির্যাতন করেছিল। পাঠ্যপুস্তকে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সম্পর্কে পুরোপুরি তথ্য নেই। তাই এতে শুধু মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বগাথা লিপিবদ্ধ নয়, পাকিস্তানি হানাদার ও তাদের দোসর রাজাকারদের কথাও লেখা হবে। তাহলে পরবর্তী প্রজন্ম বুঝতে পারবে কার কেমন ভূমিকা ছিল।’

বগুড়ার জেলা প্রশাসক ফয়েজ আহাম্মদের সভাপতিত্বে সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক আবদুল হাকিম। অন্যান্যের মধ্যে বগুড়া-৭ (গাবতলী-শাজাহানপুর) আসনের এমপি রেজাউল করিম বাবলু ওরফে শওকত হোসেন গোলবাগী, সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) সনাতন চক্রবর্তী, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ডা. মকবুল হোসেন, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রাগেবুল আহসান রিপু, সহ-সভাপতি টি. জামান নিকেতা, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার রুহুল আমিন বাবলু প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

সংবাদটি শেয়ার করতে এখানে ক্লিক করুন




All rights reserved © Prothom Kantho
Design BY Code For Host, Inc