সেনাবাহিনীকে যুগোপযোগী ও আধুনিক করার কাজ চলছে: প্রধানমন্ত্রী

সেনাবাহিনীকে যুগোপযোগী ও আধুনিক করার কাজ চলছে: প্রধানমন্ত্রী

Spread the love

নিজস্ব প্রতিবেদক,প্রথম কণ্ঠ:

সরকার বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে একটি যুগোপযোগী, প্রযুক্তিগতভাবে সুসজ্জিত এবং আধুনিক বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, ‘আজকের সেনাবাহিনী অবকাঠামো, কৌশল ও প্রযুক্তিগত দিক থেকে অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে উন্নত, স্বয়ংসম্পূর্ণ, চৌকস ও পেশাগতভাবে দক্ষ।’

রোববার(২৯ ডিসেম্বর) সকালে চট্টগ্রামের ভাটিয়ারীর বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নতুন সদস্যদের কমিশন প্রদান উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। এরআগে প্রধানমন্ত্রী বিএমএ প্যারেড গ্রাউন্ডে এসে পৌঁছলে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ তাঁকে অভ্যর্থনা জানান।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি নবীন অফিসারদের এই কথাই বলব- নবীন অফিসাররা জাতির পিতার এ কথা মেনে চললে সততাই শক্তি-এ কথাটা মনে রাখতে হবে এবং দেশকে ভালোবাসতে হবে। দেশের সম্মান যেন সব সময় সুউচ্চ থাকে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘আজকে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া, দেশকে গড়ে তোলার দায়িত্ব সবার। সবাই মিলে আসুন আমরা বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়ার উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে আমরা গড়ে তুলি।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৭৭তম দীর্ঘ মেয়াদী কোর্সের অফিসার ক্যাডেটদের কমিশন প্রাপ্তি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজ পরিদর্শন করেন

প্রধানমন্ত্রী জাতির পিতার অবদান স্মরণ করে বলেন, একটি স্বাধীন-সার্বভৌম দেশে সামরিক বাহিনীর গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম ও অনস্বীকার্য। এ কারণে একটি শক্তিশালী, প্রশিক্ষত এবং দক্ষ সেনাবাহিনী গড়ে তোলার লক্ষ্যে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আমাদের মিলিটারি একাডেমির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও উদ্বোধন করেন।

তিনি ১৯৭৪ সালে কুমিল্লায় মিলিটারি একাডেমি প্রতিষ্ঠায় জাতির পিতার পদক্ষেপের উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সাময়িকভাবে কুমিল্লায় এই মিলিটারি একাডেমির উদ্বোধন করা হয়। যেটা ছিল একটা যুগান্তকারী পদক্ষেপ। যুদ্ধবিধ্বস্থ একটি স্বাধীন দেশে সীমিত সম্পদ স্বত্ত্বেও এই যাত্রা শুরু করা একটি ঐতিহাসিক ঘটনা।’

তিনি বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর আমরা আমাদের সশস্ত্রবাহিনীকে আধুনিক এবং যুগোপযোগী করে গড়ে তোলার জন্য ফোর্সেস গোল ২০৩০ প্রণয়ন করে তা বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করেছি।

জাতির পিতার মিলিটারি একাডেমি উদ্বোধনের দিন প্রদত্ত বক্তৃতার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘জাতির পিতা বলেছিলেন এই মিলিটারি একাডেমি একদিন মানসম্পন্ন হবে এবং বিশ্ব তাকিয়ে দেখবে।’

তিনি বলেন, আজকে সত্যিই সারাবিশ্বের মানুষ আমাদের মিলিটারি একাডেমির দিকে তাকিয়ে থাকে, প্রশংসা করে এবং অনেক দেশই এখানে প্রশিক্ষণ গ্রহণে আসে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৭৭তম দীর্ঘ মেয়াদী কোর্সের সেরা চৌকস ক্যাডেট ব্যাটালিয়ন সিনিয়র কমান্ডার অফিসার সাবির নেওয়াজকে ‘সোর্ড অব অনার’ প্রদান করেন। এসময় সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ উপস্থিত ছিলেন

প্রধানমন্ত্রী বিশ্ব শান্তি স্থাপনে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে সশস্ত্রবাহিনীর সদস্যদের দক্ষ অংশগ্রহণের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, ‘যেখানেই আমাদের সশস্ত্রবাহিনী যাচ্ছে সে সব দেশই আমাদের সশস্ত্রবাহিনীর প্রশংসা করে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের সশস্ত্রবাহিনীর সঙ্গে আমাদের সেনাবাহিনীকে কাজ করতে হয়। কাজেই, আমরা সব সময় চাই, আমাদের সেনাবাহিনী সব সময় আধুনিক জ্ঞানসম্পন্ন হবে, সুপ্রশিক্ষিত হবে।’ ‘সেদিকে লক্ষ্য রেখেই আমরা বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘আজকে আমি এইটুকু বলব, আমরা আমাদের সশস্ত্রবাহিনী এবং বিশেষ করে সেনাবাহিনীকে অত্যন্ত চৌকষ এবং দক্ষ বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছি।’

প্রধানমন্ত্রী নবীন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, নতুন প্রশিক্ষণার্থী হিসেবে দীর্ঘ প্রশিক্ষণ গ্রহণের পর আজকে নতুন কর্মস্থলে আপনারা পদার্পণ করবেন। জাতির পিতা যে নির্দেশ দিয়েছেন, যে শপথ আপনারা গ্রহণ করেছেন- ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ মান্য করা। সেটা যেমন আপনাদের করতে হবে সেই সঙ্গে জাতির পিতা আরও বলেছিলেন- আপনাদের অধীনস্থ যারা থাকবেন, তাদের দিকেও আপনাদের বিশেষ দৃষ্টি দিতে হবে এবং যত্নবান হতে হবে।

শেখ হাসিনা এ সময় মিলিটারি একাডেমিতে নির্মিত বঙ্গবন্ধু কমপ্লেক্সের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার উল্লেখ করে বলেন, ‘চার বছরমেয়াদি অনার্স এবং ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রিও চালুকরা হয়েছে। গ্রাজুয়েটদের কমিশন লাভের সময়কাল আমরা বৃদ্ধি করে দিয়েছি, যাতে এটা আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন হয়।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৭৭তম দীর্ঘ মেয়াদী কোর্সের অফিসার ক্যাডেটদের কমিশন প্রাপ্তি উপলক্ষে নবীন অফিসারদের র‌্যাংক-ব্যাজ পরিয়ে দেন। এসময় সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ উপস্থিত ছিলেন

প্রধানমন্ত্রী স্বাধীনতা অর্জনকালীন দেশের আর্থসামাজিক দুরাবস্থার কথা স্মরণ করে বলেন, যখন আমরা স্বাধীনতা অর্জন করি তখন আমাদের দেশের শতকরা ৮২ ভাগ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে ছিল। আমরা আজকে তাকে ২০ ভাগে নামিয়ে এনেছি। বাংলাদেশকে আমরা ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত, উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই, যে দেশের স্বপ্ন জাতির পিতা দেখেছিলেন।

জাতির পিতার স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ার পথে বাংলাদেশ আজ অর্থনৈতিকভাবে আরও সক্ষমতা অর্জন করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকে সারা বিশ্বের কাছে বাংলাদেশ উন্নয়নের রোলমডেল।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রবৃদ্ধি আমরা ৮ দশমিক ১৫ শতাংশে বৃদ্ধি করতে সক্ষম হয়েছি। মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি করেছি। আমাদের সব উন্নয়নের ছোঁয়া বাংলাদেশের তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত আমরা পৌঁছে দিতে সক্ষম হয়েছি।’

তিনি এ সময় পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা এবং ১০ বছরমেয়াদি প্রেক্ষিত পরিকল্পনার ভিত্তিতে দেশকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে নিয়ে আসা এবং ২০৪১ সাল নাগাদ উন্নত-সমৃদ্ধ করে গড়ে তোলার দৃঢ় প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৭৭তম দীর্ঘ মেয়াদী কোর্সের অফিসার ক্যাডেটদের কমিশন প্রাপ্তি উপলক্ষে কুচকাওয়াজে সালাম গ্রহণ করেন

বঙ্গবন্ধু কন্যা ২০২০ সালে তার সরকার এবং আওয়ামী লীগের যৌথ কর্মসূচির মাধ্যমে জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন এবং ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ওই সময়টিকে মুজিববর্ষ ঘোষণা করা হয়েছে, যে সময়ে বাংলাদেশে আর হতদরিদ্র বলে কেউ থাকবে না।

এ সময় নেদারল্যান্ডস সরকারের সহযেগিতায় আগামী প্রজন্মকে একটি সুন্দর বাংলাদেশ উপহার দেয়ার জন্য তার সরকার গৃহীত শতবর্ষ মেয়াদী ‘ডেল্টা পরিকল্পনা-২১০০’ গ্রহণ এবং তা বাস্তবায়নের পদক্ষেপের কথাও তিনি উল্লেখ করেন।

এর আগে শুরুতেই প্রধানমন্ত্রীকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। এরপর কমিশন পাওয়া সেনা কর্মকর্তাদের কুচকাওয়াজ পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী। কুচকাওয়াজ পরিদর্শন শেষে ৭৭তম দীর্ঘমেয়াদি কোর্সের প্রশিক্ষণে সফল হওয়া ২৬৫ সেনা কর্মকর্তার সালাম গ্রহণ করেন তিনি। কমিশন পাওয়া নবীন সেনা কর্মকর্তাদের মধ্যে ২৯ জন সৌদি, একজন ফিলিস্তিনি ও একজন শ্রীলঙ্কার সেনা কর্মকর্তা রয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ ৭৭তম দীর্ঘ মেয়াদী কোর্সের অফিসার ক্যাডেটদের কমিশন প্রাপ্তি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে নবীন অফিসারদের সাথে ফটোসেশনে অংশ নেন

এবার ব্যাটালিয়ন সিনিয়র আন্ডার অফিসার সাবির নেওয়াজ শাওন ৭৭তম বিএমএ দীর্ঘমেয়াদি কোর্সে সেরা চৌকস ক্যাডেট বিবেচিত হয়ে সোর্ড অব অনার লাভ করেন। এ ছাড়া কোম্পানি সিনিয়র আন্ডার অফিসার বরকত হোসেন সামরিক বিষয়ে শ্রেষ্ঠত্বের জন্য সেনাবাহিনীপ্রধান স্বর্ণপদক অর্জন করেন।

৭৭তম বিএমএ দীর্ঘমেয়াদি কোর্সে কমিশন পাওয়া ক্যাডেটদের মধ্যে ২০৭ জন পুরুষ ও ২৭ জন মহিলা ক্যাডেট রয়েছেন।

অনুষ্ঠানে সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ, ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ, পানিসম্পদ উপমন্ত্রী এনামুল হক শামীম, শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, চট্টগ্রামের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন এবং চট্টগ্রামের সংসদ সদস্য, সেনাবাহিনী ও প্রশাসনের উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা ছিলেন।

সংবাদটি শেয়ার করতে এখানে ক্লিক করুন




All rights reserved © Prothom Kantho
Design BY Code For Host, Inc