সখীপুরে নতুন বইয়ের গন্ধে মুখর চারিদিক

সখীপুরে নতুন বইয়ের গন্ধে মুখর চারিদিক

নিজস্ব প্রতিনিধি : ১ জানুয়ারি সকাল ১০ টা। গ্রাম, শহর, পাড়া-মহল্লার প্রতিটি সড়কে পাখির কিচির-মিচির শব্দের মত শিশুদের কল-কাকলিতে মুখরিত। উপজেলার প্রতিমা বংকী গোল্ডেন লাইফ কিন্ডার গার্টেন স্কুলের মাঠে এলোমেলো পায়ে হাঁটছে বছর আটের কয়েকজন শিক্ষার্থী। সকাল থেকে বড় টেনশন নিয়ে অপেক্ষা করছে ছোট্ট শিশুগুলো। এ অপেক্ষা বইয়ের জন্য, নতুন বই। বছরের প্রথম দিনে নতুন বইয়ের আনন্দে ভাসলো ওই শিক্ষার্থীদের মতো হাজার হাজার শিক্ষার্থী।

আজ বুধবার সারাদেশের মত টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার প্রতিটি প্রাথমিক, মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদরাসায় ছিল বই উৎসব। বছরের প্রথম দিনেই সরকারের দেয়া বিনামূল্যের বই পেয়েছে এ উপজেলার শিক্ষার্থীরা।

সকাল ১১ টায় সরকারি পাইলট স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে স্থানীয় সংসদ সদস্য, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রনালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য জোয়াহেরুল ইসলাম সোনামনিদের হাতে নতুন বই তুলে দিয়ে উৎসবের উদ্বোধন করেন।

এ সময় উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জুলফিকার হায়দার কামাল লেবু, মেয়র আবু হানিফ আজাদ, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মফিজুল ইসলাম, আওয়ামী লীগের সভাপতি কুতুব উদ্দিন আহমেদ, জেলা পরিষদ সদস্য গোলাম কিবরিয়া বাদল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

পরে মাঠভর্তি শিক্ষার্থীদের হাতে বই তুলে দিয়ে বক্তরা বলেন, ‘সরকার শতভাগ সাক্ষরতার বিষয়ে বদ্ধপরিকর। আর সেই লক্ষ্যের অন্যতম সাফল্য হচ্ছে বিনামূল্যে বই বিতরণ নিশ্চিত করা। বছরের প্রথম দিনেই সব শিক্ষার্থীর হাতে বই তুলে দিতে পারাটা যেমন বিরাট সাফল্যের তেমনি আনন্দেরও।’

নতুন বই পেয়ে বেজায় খুশি শিক্ষার্থীরা। রঙিন মলাট, রঙিন ছবি, সব মিলিয়ে দারুণ সব বই হাতে পেয়ে অনেকে স্কুল মাঠেই পড়া শুরু করে দেয়। তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্রী সাফা আক্তার জানায়, ‘আমি তো বাংলা বইয়ের কবিতাগুলো পড়ে ফেলেছি, কী দারুণ সব কবিতা!’ সপ্তম শ্রেণীর ছাত্র রবিন রানা জানায়, ‘বইগুলো দেখেই মনে হচ্ছে আজই সব পড়ে ফেলি। কত গল্প আছে বইয়ে!’

তবে টুকটাক অভিযোগও ছিল অভিভাবকদের। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন অভিভাবক বলেন, ‘আমার ছেলে একটি কিন্ডার গার্টেন স্কুলে পড়ে, বোর্ড বইয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন কিন্ডারগার্টেনের শিক্ষার্থীর হাতে ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে পছন্দমত গ্রামার, ব্যাকরণ ও সাধারণ জ্ঞানের বইয়ের তালিকা। যা চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে স্কুল কর্তৃক নির্ধারিত শহরের লাইব্রেরীগুলোতে। কোমলমতি শিশুদের জন্য এটা অতিরিক্ত বোঝা হবে।’

সংবাদটি শেয়ার করতে এখানে ক্লিক করুন




All rights reserved © Prothom Kantho
Design BY Code For Host, Inc