ঘরে ঘরে সাঈদীর জন্মের ওপর প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানোর দাবি মমতাজের

ঘরে ঘরে সাঈদীর জন্মের ওপর প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানোর দাবি মমতাজের

প্রথমকণ্ঠ ডেস্ক : ঘরে ঘরে দণ্ডপ্রাপ্ত যুদ্ধাপরাধী সাঈদীর জন্মের আহ্বান জানানোর বিষয়ে প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য এবং কণ্ঠশিল্পী মমতাজ বেগম।

তিনি আরো বলেন, আমরা কোনো গ্রুপ অনেক বড় হলে তার পক্ষে থাকবো। আর যারা দুর্বল তার পক্ষে থাকবো না, শেখ হাসিনার সরকার এতে বিশ্বাসী না।

বুধবার (২৯ জানুয়ারি) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে মমতাজ বেগম এসব কথা বলেন।

এসময় ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়া সভাপতিত্ব করেন।

মমতাজ বেগম বলেন, ধর্ম নিরপেক্ষ, অসাম্প্রদায়িক এই সরকারের পাশে শিল্পীরা অতীতেও ছিল, বর্তমানেও আছে, ভবিষ্যতেও থাকবে। কারণ আমরা দেখেছি, আমরা আগের আমলগুলো ভুলে যাইনি। ২০০১ সালে বিএনপি জামায়াত ক্ষমতায় আসার পর সব শিল্পীদের গান-বাজনা মোটামুটি বন্ধই হয়ে গিয়েছিল। তারা প্রত্যেকটা আসরে, বাজারে, সিনেমা হলে, উদীচিতে, রমনার বটমূলে একসঙ্গে সিরিজ বোমা হামলা চালায় ৬৪ জেলায়। কোথায় বোমা না মেরেছে। প্রত্যেকটি শিল্পীদের আঘাত করা হয়েছে। কারণ শিল্পীরা অসাম্প্রদায়িক। তারা ধর্ম নিরপেক্ষতার কথা বলে, মানুষের কথা বলে, মানুষের পাশে মানুষকে দাঁড়ানোর কথা বলে। আর তাদের ঠেকানোর জন্য এক দল, একদল… আমি নাম বলবো না। তারা কিন্তু উঠে পড়ে লেগেছে।

‘ডিজিটাল বাংলাদেশ হচ্ছে, আমরা সবধরনের সুযোগ সুবিধা পাচ্ছি। কিন্তু আমার মনে হয়, কিছু কিছু জায়গায় বেকায়দাও আছি। কারণ ইউটিউব, ফেসবুক খুললে কী যে একটা অবস্থা…। অশালীন ভাষায়, অকথ্য ভাষায়, যেভাবে কোরআন শরীফকে সামনে রেখে, আল্লাহ-রাসুলকে সামনে রেখে, যেভাবে অকথ্য ভাষায় আজকাল ওয়াজ শোনা হয়। খুললেই দেখা যায় একজন আরেকজনকে গালিগালাজ করছে। ভালো কথা ছাড়া, খারাপ কথাই সেখানে বেশি শোনা যায়। আজকে সেগুলো আমাদের খেয়াল করতে হবে। আমাদের প্রশাসনকে এগুলো দেখতে হবে। আমাদের ধর্মমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই। তিনি একটি জায়গায় একটি বক্তব্য দিয়েছেন। আমি সেটা রিপিট করবো না। এ ধরনের যারা আছেন যারা সুবিধার জন্য একেক জায়গায় একে রকমের বক্তব্য দেয়।’

তিনি আরও বলেন, এক জায়গায় বলে আল্লামা কোনো মানুষকে বলা যাবে না, আল্লামা একমাত্র আল্লাহকে বলা হবে। আবার আরেক জায়গায় বলে ঘরে ঘরে আল্লামা সাঈদী চলে এসো, সাঈদীর জন্ম হোক। ওখানে আল্লামা বলতে আর কোনো ঝামেলা নাই তাদের। আরও অনেক ধরনের কথা আছে, যেগুলো আমি আর এখন বলবো না। কিন্তু আমাদের প্রশাসন, আমাদের সরকারকে নজরদারি বাড়াতে হবে। আমাদের কালোকে কালো বলতে হবে, সাদাকে সাদা বলতে হবে। কোনো গ্রুপ অনেক বড় তার পক্ষে থাকবো, আর যারা দুর্বল তার পক্ষে থাকবো না। এ কথা অন্তত আওয়ামী সরকার বিশ্বাসী না। তাই আমাদের সেই বিষয়গুলো মাথায় রাখতে।

মমতাজ বলেন, প্রত্যেকটি জায়গায় ভাতা দেওয়া হচ্ছে। বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, মুক্তিযোদ্ধা ভাতা, গর্ভকালীন ভাতা। আমি এখানে দাঁড়িয়ে শুধু একটি জায়গার কথা বলতে চাই। আমাদের দেশে যত নামী-দামী শিল্পী গান বলেন, নাটক বলেন, সিনেমা বলেন প্রত্যেকটি জায়গায় শিল্পীরা অসুস্থ হলে (বিগত দিনে আওয়ামী লীগ করেছে না বিএনপি করেছে, কোথায় ভোট দিয়েছে এটা কিন্তু শেখ হাসিনা দেখেন না) মায়ের মমতা দিয়ে আজ তাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। আমি আরেকটু বলতে চাই গ্রাম-গঞ্জে আমাদের অনেক শিল্পীরা আছেন যারা অনেক বড় মাপের শিল্পী না। কিন্তু তারা ছোটখাটো গান, বৈঠকী গান, আসর করে জীবন বাঁচান। আমি জানি এই শিল্পীরা উপজেলা বা ইউএনও অফিসে কোনো দরখাস্ত করলে একটা আর্থিক সহযোগিতা পায়। কিন্তু আমি চাচ্ছি যেমনইভাবে অন্য ভাতাগুলো দেওয়া হচ্ছে। এরকমভাবে এসব শিল্পীদের বিষয়েও একটা মাসিক ভাতা যেন নেত্রী/সরকার চালু করে।

এসময় মমতাজ বেগম জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে গান গেয়ে বক্তব্য শেষ করেন।

সংবাদটি শেয়ার করতে এখানে ক্লিক করুন




All rights reserved © Prothom Kantho
Design BY Code For Host, Inc