বিএনপির সমাবেশ আইন-আদালতের বিরুদ্ধে : তথ্যমন্ত্রী

বিএনপির সমাবেশ আইন-আদালতের বিরুদ্ধে : তথ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, প্রথম কণ্ঠ:

তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, ‘সমাবেশে খালেদা জিয়ার মুক্তি মিলবে না, বরং বিএনপির সমাবেশ আইন-আদালতের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন।’

শনিবার(০৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীতে জাতীয় প্রেসক্লাবের মওলানা আকরাম খাঁ মিলনায়তনে জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী ও মুজিববর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। খালেদা জিয়ার কারাবাসের দুই বছর উপলক্ষে ও তাঁর মুক্তির দাবিতে আজ দুপুরে নয়াপল্টনে সমাবেশ করে বিএনপি।

ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘দুর্নীতির দায়ে আদালতের বিচারে সাজাপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে কেবল আদালতে জামিন বা খালাস পাওয়া ছাড়া খালেদা জিয়ার মুক্তির অন্য কোনো পথ নেই। সে কারণে তাঁর মুক্তির জন্য আন্দোলন আইন-আদালতের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন।’

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ ও ভারতের জয়ললিতা জয়রাম বিচারের প্রসঙ্গে টেনে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘বিপুল জনপ্রিয়তা সত্ত্বেও তাদের গ্রেপ্তার করে বিচার প্রক্রিয়ায় নেওয়া হয়েছে। জয়ললিতার গ্রেপ্তার ও মৃত্যুর পর অনেক ভক্ত আত্মহত্যা পর্যন্ত করেছেন, কিন্তু তাঁর দল কখনো আদালতের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সমাবেশ বা আন্দোলন করেনি।’

‘বিএনপির মেশিন বেচার ইতিহাস রয়েছে’ বলে মন্তব্য করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি তাদের আমলে আদমজী পাটকলসহ দেশের বিভিন্ন কলকারখানা বন্ধ করে সেখানকার মেশিনপত্র কেজি দরে বেচে দিয়েছিল বলেই তাদের নেতা খসরু সাহেব আজ নির্বাচনে হেরে ইভিএমগুলো কেজি দরে বেচার কথা বলার ধৃষ্টতা দেখিয়েছেন।’

সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর উদ্বৃত্ত অর্থ রাষ্ট্রীয় খাতে জমা রাখার বিধানের বিরুদ্ধে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সমালোচনাকে অযৌক্তিক বলে বর্ণনা করা ড. হাছান বলেছেন, ‘কিছু সরকারি প্রতিষ্ঠানের উদ্বৃত্ত অর্থ বিভিন্ন তফসিলি ব্যাংকে রাখা হতো, যার হিসাব প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন প্রতিবেদনে সময়ে সময়ে অপ্রদর্শিত থাকায় তা অর্থনীতিতে যুক্তও হতো না। সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর খরচ মেটানো ও উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ রেখেই উদ্বৃত্ত অর্থ রাষ্ট্রীয় খাতে জমা রাখা দেশের অর্থনীতির জন্য মঙ্গলের। এ বিষয়টি না বুঝে বা বুঝেও মুর্খের মতো সমালোচনা করলে তারা নিজেরা লজ্জা না পেলেও আমরা লজ্জা পাই। এটি না করার অনুরোধ জানাব।’

সভার শুরুতে জাতির পিতার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী মুজিববর্ষ সমাগত। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের জন্ম না হলে ঘুমন্ত বাঙালি জাগ্রত হতো না, বাংলাদেশ স্বাধীন হতো না। তিনি শুধু দেশ স্বাধীনই করেননি, দেশের ভেতরে এক কোটি গৃহহারা ও ভারতে আশ্রিত প্রায় আরো এক কোটি মানুষের পুনর্বাসন করেছেন। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে যাওয়া ধ্বংসস্তুপের ভেতর থেকে দেশের অর্থনীতির ইতিহাসে সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি এনে দিয়েছেন। আর তাঁর মৃত্যুর পর দেশ যে দুর্নীতি-দুঃশাসনে পিছিয়ে পড়েছিল, বঙ্গবন্ধুকন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আবার বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে দেশকে অদম্য গতিতে এগিয়ে নিচ্ছেন। সমস্ত সূচকে আজ আমরা পাকিস্তানকে পেছনে ফেলেছি। গত ১১ বছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধির গড় হার বিশ্বে সর্বোচ্চ।’

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের এই উন্নয়ন যারা সহ্য করতে পারে না, শেখ হাসিনাকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলায় ব্যর্থ হয়ে তারা যে ষড়যন্ত্রের পথ বেছে নিয়েছে, তা থেকে সমগ্র জাতিকে সতর্ক থাকতে হবে।’

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ও আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া বলেন, ‘বিএনপি-জামায়াতের সব ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী ও মুজিববর্ষ উদযাপন সফল করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।’

প্রথম কণ্ঠ /এস এম

সংবাদটি শেয়ার করতে এখানে ক্লিক করুন




All rights reserved © Prothom Kantho
Design BY Code For Host, Inc