ধর্ষণের শিকার সেই তিন ছাত্রীকে স্কুল থেকে বিতাড়ন!

ধর্ষণের শিকার সেই তিন ছাত্রীকে স্কুল থেকে বিতাড়ন!

নিজস্ব প্রতিনিধি : টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে বেড়াতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার সেই তিন ছাত্রীকে বিদ্যালয় থেকে টিসি দিয়ে বের করে দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে স্কুলের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। তিন শিক্ষার্থী নিয়মিত ক্লাস করার জন্য প্রধান শিক্ষককের কাছে লিখিতভাবে অনুরোধ জানালেও অনুমতি মেলেনি তাদের। এতে চরম হতাশা বিরাজ করছে নির্যাতিতা ও তাদের অভিভাবকদের মধ্যে।
দীর্ঘদিন পর নির্যাতিতা ওই কিশোরীরা স্কুলে গেলে স্কুলের প্রধান শিক্ষক তাদের আর এই স্কুলে রাখা হবে না বলে তাদের টিসি দিয়ে তাড়িয়ে দেয়। বার বার অনুরোধ করার পরেও তাদের কথায় কর্ণপাত করেনি প্রধান শিক্ষক বুলবুলি বেগম।
এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক বুলবুলি বেগম বলেন, ম্যানেজিং কমিটির সিদ্ধান্তে একজনকে এবং অপর দুই মেয়ে তাদের ইচ্ছায় টিসি নিয়েছে। ওরা যদি আবার এ স্কুলে পড়তে চায়, সে ক্ষেত্রে ম্যানেজিং কমিটির সিদ্ধান্তে তাদের আবার স্কুলে ভর্তি করে নেয়া হবে।
ঘাটাইল এসই বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও ঘাটাইল উপজেলা চেয়ারম্যান মো. শহিদুল ইমলাম লেবু বলেন, মেয়েগুলোর বিষয়ে অনেক অভিভাবক আমাদের অভিযোগ জানিয়েছে। ওরা যদি স্কুলে আসে ওই অভিভাবকরা তাদের মেয়েদের এ স্কুলে আর রাখবেন না। তাই তাদের টিসি দেয়া হয়েছে।
এর আগে, গত ২৬ জানুয়ারি ঘাটাইলের একটি স্কুলে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় ও দোয়া অনুষ্ঠান ছিল। বিকেলে চার বান্ধবী ও দুই বন্ধু মিলে পাহাড়ী এলাকার বনের ভিতরে ঘুরতে যায়। এ সময় তাদের পিছু নেয় স্থানীয় ১০/১২ জন বখাটে যুবক। পরে কিশোরীরা বনের গভীরে ঢুকতেই বখাটেরা এক বান্ধবী ও দুই বন্ধুকে গাছের সঙ্গে বেঁধে অপর তিন জনকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে পালিয়ে যায়। পরে ওই চার ছাত্রী তাদের একজনের নানীর বাড়িতে আশ্রয় নেয়। সেখান থেকে মোবাইল ফোনে অভিভাবকদের বিষয়টি জানালে তারা পুলিশকে অবহিত করে। পরে পুলিশ সেখান থেকে তাদের উদ্ধার করে।
সোমবার (২৭ জানুয়ারি) ধর্ষিত তিনজনের মধ্যে এক ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামি করে ঘাটাইল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। পরে বিভিন্ন এলাকায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে এদের আটক করে আদালতে প্রেরণ করলে আটককৃতদের চারজন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। অন্যদিকে ১২২ ধারায় তিন কিশোরীর জবানবন্দিও রেকর্ড করা হয় আদালতে।
এ ব্যাপারে মানবাধিকার কর্মী ও আইনজীবী আতোয়ার রহমান আজাদ জানিয়েছেন, সমাজ তাদের সঙ্গে দুটা অন্যায় করেছে। সমাজের অন্ধকার জগতের মানুষগুলো তাদের নির্যাতন করেছে। অন্যদিকে এখন সমাজের আলোকিত মানুষগুলো তাদের জীবন অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। আমি মনে করি, তাদের শিক্ষার সুযোগ করে দেয়া দরকার। একইসঙ্গে সংশ্লিষ্টদের শাস্তি হওয়া উচিত।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শফিকুল ইসলাম বলেন, মেয়েগুলোতো ঘটনার শিকার। তারা কেন শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত হবে। বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অঞ্জন কুমার সরকার বলেন, সকলেরই শিক্ষার অধিকার আছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সংবাদটি শেয়ার করতে এখানে ক্লিক করুন




All rights reserved © Prothom Kantho
Design BY Code For Host, Inc