টাঙ্গাইলে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে মাঠে তৎপর আছেন পুলিশ প্রশাসন

টাঙ্গাইলে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে মাঠে তৎপর আছেন পুলিশ প্রশাসন

প্রথমকণ্ঠ : করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে মাঠে তৎপর আছেন টাঙ্গাইলের পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তারা জনগনকে সচেতন করতে অনবরত কাজ করছেন। সেই সাথে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কর্মহীন অসহায় মানুষের হাতে তুলে দেয়া হচ্ছে খাবার ও প্রয়োজনীয় দ্রব্য সামগ্রী। আবার অনেক স্থানে সামাজিক দূরত্ব না মেনে হাট-বাজারে লোক সমাগম দেখা গেছে। উপজেলা ও পৌরসভার মূল সড়কে করোনা ভাইরাস এড়াতে জীবানুনাশক স্প্রে ও করা হচ্ছে।

টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক শহীদুল ইসলাম শহরের পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় শতাধিক কর্মহীন মানুষের মধ্যে ১০ কেজি চাল, এক কেজি ডাল, তিন কেজি আলু, এক কেজি পিঁয়াজ বিতরণ করেছেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন খান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) বজলুর রশিদ, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মুহাম্মদ শহীদ উল্লাহ, সদর উপজেলার চেয়ারম্যান শাহজাহান আনছারী, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আতিকুল ইসলাম প্রমুখ।

টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার (এসপি) সঞ্জিত কুমার রায় উপস্থিত থেকে শহরের জেনারেল হাসপাতাল এলাকা, পাঁচআনী বাজার, ছয়আনী বাজার, নিউ মার্কেটসহ বিভিন্ন এলাকায় দোকানের সামনে সাদা রং দিয়ে বৃত্ত একে দেন। ক্রেতাদেরকে ওই বৃত্তের মধ্যে থেকেই প্রয়োজনীয় কেনাকাটা করতে হবে। কেনা শেষ করে তিন ফুট দূরত্বে থেকেই দ্রুত বাসায় ফিরতে হবে। জেলার সড়কগুলোর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে টেকপোস্ট বসিয়ে জনসাধারণকে সতর্ক করছেন পুলিশ সদস্যরা। একাধিক মানুষ জড়ো হতে দেখলেই তাদেরকে সরিয়ে দেয়া হচ্ছে। পাশাপাশি প্রশাসনকে সহায়তা করতে টহল দিচ্ছে সেনাবাহিনী। সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখার জন্য টাঙ্গাইলে র‌্যাব-১২ সদস্যরা শহরের গুরত্বপূর্ণ সড়ক ও বাজার পরিদর্শন করেন। সেই সাথে র‌্যাব-১২ ও সিপিসি-৩ কোম্পানী কমান্ডার মেজর আবু নাঈম তালাদের নেতৃত্বে সচেতনামুলক প্রচারণা এবং হাতধোয়া কর্মসূচি ও মানুষের মাঝে মাক্স বিতরণ করা হয়।

উপজেলা পর্যায়ে বিদেশ ফেরতদের বাড়ীতে বাড়িতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে লাল নিশান টানিয়ে দেয়া হয়েছে। হোম কোয়ারেন্টাইন না মানায় বেশকয়েকজনকে আর্থিক জরিমানাও করা হয়। টাঙ্গাইলের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ওয়াহেদুজ্জামান বলেছেন, সম্প্রতি বিদেশ থেকে টাঙ্গাইলে আসা ৫৪৪৬ জনের মধ্যে ৩৭৯৭ জনের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। যা বড়ই শংকার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এরমধ্যে ৫৫৫ জন সোমবার (৩০ মার্চ) পর্যন্ত হোম কোয়ারেন্টিনে আছেন। এছাড়া ১৪ দিন অতিবাহিত হওয়ায় ১০৯৪ জন হোম কোয়ারেন্টিন মুক্ত হয়েছেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাগণ নিজ নিজ এলাকায় গরিবদের হাতে খাবার তুলে দিচ্ছেন। তেমনি সাধারণ জনগণকে সচেতন করতে সার্বক্ষণিক কাজ করছেন।

টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের কনসালটেন্ট মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা: সুজাউদ্দিন তালুকদার বলেন, পুলিশ প্রশাসনের পাশাপাশি করোনা ভাইরাস এড়াতে জনগণকে অবশ্যই সচেতন হতে হবে। সামাজিক দূরত্ব না মেনে গণ-জমায়েত করলে ভাইরাস সংক্রমনের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। কালিহাতী উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) শাহরিয়ার রহমান বলেন, বেশকয়েক দিন আগেই সকল হাট-বাজার বন্ধের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তবুও কোন হাটবাজারে লোক সমাগমের খবর পেলে আমরা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিচ্ছি। পুলিশ প্রশাসনের পাশাপাশি জনগণকে আরো সচেতন হতে হবে।

গত (২১ মার্চ) টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক শহীদুল ইসলাম করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে একটি গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছেন। গণবিজ্ঞপ্তিতে সামাজিক, রাজনৈতিক, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক সভা-সমাবেশ, হাট-বাজার, গণ জমায়েত, কোচিং সেন্টার, ক্লাব, বিনোদন পার্ক, জনবহুল রেস্টুরেন্ট বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন।

প্রথমকণ্ঠ / এস এম

সংবাদটি শেয়ার করতে এখানে ক্লিক করুন




All rights reserved © Prothom Kantho
Design BY Code For Host, Inc