লকডাউনে এলাকাভিত্তিক বিধিনিষেধ

লকডাউনে এলাকাভিত্তিক বিধিনিষেধ

Spread the love

নিজস্ব প্রতিবেদক,প্রথমকণ্ঠ : করোনার সংক্রমণের মাত্রার ওপর ভিত্তি করে ঢাকাসহ সারা দেশকে ‘রেড জোন’, ‘ইয়েলো জোন’ ও ‘গ্রিন জোনে’ ভাগ করে বিধিনিষেধ আরোপের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

এরই পরিপ্রেক্ষিতে পরীক্ষামূলকভাবে অধিক করোনা সংক্রমিত রাজধানীর বিভিন্ন এলাকাকে রেড জোন ঘোষণা করে তা লকডাউন করে দেয়া হবে। এক্ষেত্রে জোন অনুযায়ী চলাচলে আরোপ করা হবে কঠোর বিধিনিষেধ।

এলাকাভিত্তিক ঢাকার ‘রেড, ইয়েলো ও গ্রিন জোন’ এলাকা কীভাবে পরিচালিত হবে, তার গাইডলাইন ঠিক করা হয়েছে।

গাইডলাইন অনুযায়ী, লকডাউন ঘোষিত এলাকায় চলাচল বন্ধ থাকবে। তবে বিশেষ ব্যবস্থায় মানুষের জন্য মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনাবেচাসহ বিভিন্ন সুযোগের ব্যবস্থা করা হবে। থাকবে হোম ডেলিভারি সুযোগ। এই এলাকার মানুষের করোনাভাইরাস পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহে প্রয়োজনীয় সংখ্যক ‘নমুনা সংগ্রহ বুথ’ স্থাপন করা হবে।

আর হলুদ এলাকায় অফিস, কারখানা, কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ-শিল্পে ৫০ শতাংশ কর্মী দিয়ে চালু রাখতে পারবে। এ ধরনের ক্ষেত্রে স্থানীয় আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানাকে আগেই জানিয়ে রাখতে হবে। তবে এই এলাকায় সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে।

কেন্দ্রীয় একটি কমিটির অধীনে স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলের নেতৃত্বে পুলিশ, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও সিটি করপোরেশনের প্রতিনিধিসহ স্থানীয় মানুষের সম্পৃক্ততায় লকডাউনসহ এসব জরুরী বিষয় বাস্তবায়িত হবে। মেয়রের সভাপতিত্বে কেন্দ্রীয় ব্যবস্থা কমিটি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের চিহ্নিত করা এলাকা থেকে অগ্রাধিকার ও পারিপার্শ্বিক সক্ষমতা বিবেচনা করে এলাকা বা স্থান বাছাই করে নির্ধারিত জোনে (মূলত লাল) লকডাউনসহ অন্যান্য ব্যবস্থাপনার বিষয়ে নির্দেশনা দেবে।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আতিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, এখন স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে এলাকা চিহ্নিত করে দেওয়া হলেই তা বাস্তবায়িত করা হবে। প্রাথমিকভাবে শুরুর জন্য ইতিমধ্যে দু’একটি জায়গা ঠিক করা হয়েছে।

এলাকাভিত্তিক বিধিনিষেধ-

লাল ও হলুদ এলাকার করোনায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী টহলে থাকবে। আইন অমান্যকারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য লাল ও হলুদ এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হবে। থাকবে টেলিফোনের মাধ্যমে চিকিৎসা পরামর্শ নেয়ার ব্যবস্থা। সে জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তর প্রতিটি লাল ও হলুদ এলাকার জন্য একটি চিকিৎসক ‘পুল’ প্রস্তুত করবে। এই পুলে থাকা চিকিৎসকেরা রোগীদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পরামর্শ দেবেন।

লকডাউন এলাকার কোনো রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তির প্রয়োজন হলে রোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে ১৬২৬৩ বা চিকিৎসক ‘পুলে’ ফোন করলে কোন হাসপাতালে ভর্তি করা যেতে পারে, সে বিষয়ে সহযোগিতা করা হবে। আর এলাকায় কেউ মারা গেলে ‘আল মারকাজুল ইসলাম, আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলাম বা এই ধরনের কাজে নিয়োজিত সংস্থার মাধ্যমে দাফন বা সৎকার করা হবে।

লাল এলাকায় মানুষদের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের জন্য হোম ডেলিভারির ব্যবস্থা থাকবে। লাল ও হলুদ এলাকায় শপিং মল বন্ধ থাকবে। তবে হলুদ ও সবুজ এলাকায় মুদি দোকান খোলা থাকবে। লাল এলাকায় গণপরিবহন চলাচল করবে না, এমনকি এই এলাকায় স্টপেজও থাকবে না। তবে কেবল রাতে মালবাহী যান চলাচল করতে পারবে।

ইয়েলো জোন এলাকায় অর্ধেক যাত্রী নিয়ে গণপরিবহন চলতে পারবে। একজন করে যাত্রী নিয়ে রিকশা ও অটোরিকশা চলতে পারবে। এই এলাকায় মালবাহী যানও চলবে।

গ্রীন জোন এলাকায় যানবাহন চলতে পারবে। লাল এলাকার মসজিদে সাধারণের প্রবেশ নিষেধ থাকবে। তবে হলুদ ও সবুজ এলাকায় দূরত্ব বজায় রেখে যাওয়া যাবে।

লাল বা হলুদ জোনে অবস্থিত অফিস–আদালত নিয়ন্ত্রিতভাবে চলা বা বন্ধ রাখার পক্ষে সিটি করপোরেশন। এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে নির্দেশনা আসতে হবে বলে মনে করে সিটি করপোরেশন।

লাল/হলুদ এলাকার আওতাভুক্ত এলাকা সম্পর্কে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম, টেলিভিশন ও মসজিদের মাইক থেকেও সতর্কীকরণ বার্তা প্রচার করা হবে।

প্রথমকণ্ঠ / এস এম

সংবাদটি শেয়ার করতে এখানে ক্লিক করুন




All rights reserved © Prothom Kantho
Design BY Code For Host, Inc