সিরিজ বোমা হামলার ১৫ বছর আজ | প্রথমকণ্ঠ

সিরিজ বোমা হামলার ১৫ বছর আজ | প্রথমকণ্ঠ

Spread the love

এস এম জাকির হোসেন : ১৫ বছর আগে আজকের এই দিনে সারাদেশের অফিস-আদালত পাড়া যখন কেবল সরগরম হতে চলেছে, এমন সময় এক যোগে ৬৩টি জেলার প্রায় পাঁচশ’ স্থান বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে। ভয়াবহ বোমা হামলার মাধ্যমে নিজেদের শক্তিশালী অস্তিত্বের জানান দেয় জঙ্গি সংগঠন জামায়াতুল মুজাহিদ বাংলাদেশ (জেএমবি)।

দিনটি ছিল ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট। সেদিন সকাল সাড়ে দশটা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত রাজধানীর ৩৪টি স্থানসহ দেশের ৬৩ জেলার চালানো হয় এসব হামলা। এতে মারা যান দুই জন। আহত হন শতাধিক। এসব ঘটনায় দায়ের করা ১৬১টি মামলায় আসামী করা হয় ১ হাজার ১৫৭ জনকে। যাদের মধ্যে গ্রেপ্তার হন ৯৬০ জন।

তবে এখনো ওইসব মামলার ৩২ শতাংশের বেশি, অর্থাৎ প্রায় অর্ধশতাধিক মামলার বিচার কার্য এখনো সম্পন্ন হয়নি। যদিও এখন পর্যন্ত ১১০ মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। এসব মামলায় দেয়া রায়ে জেএমবির শীর্ষনেতা শায়খ আবদুর রহমান ও সেকেন্ড ইন কমান্ড সিদ্দিকুল ইসলাম বাংলাভাইসহ ৩৫ জঙ্গির মৃত্যুদণ্ডের আদশ হয়েছে। ফাঁসি কার্যকর হয়েছে ১৫ জনের। এছাড়া প্রায় দেড়শ জনের যাবজ্জীবনসহ বিভিন্ন মেয়াদে ২৮৭ জনের সাজা হয়। মামলা থেকে খালাস পেয়েছেন ১১৮ জন। জামিনে মুক্তি পেয়েছেন ৩৫ জন ও এখনো পলাতক আছেন ৫৩ জন আসামী।

এখনো যে ৩২ শতাংশ মামলা ঝুলে আছে তার কারণ হিসেবে প্রধান কৌঁসুলি আবদুল্লাহ আবু মনে করেন, ‘মামলায় দীর্ঘ সময় নেয়ার বড় কারণ হচ্ছে সাক্ষী না আসা। দেখা গেল পুলিশ সমন নিয়ে গেছে, সাক্ষীকে সেখানে পাওয়া যায়নি। সময়মত সাক্ষী হাজির করতে না পারায় বত্রিশ শতাংশের বেশি মামলা এখনো ঝুলছে।’

এদিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া অবস্থান আর শীর্ষ নেতাদের বিচার হওয়ায় খানিক স্তিমিত হয়ে এসেছে জঙ্গি সংগঠনগুলোর কার্যক্রম, তবে তাদের পুরোপুরি নির্মূল করা সম্ভব হয়নি। বিভিন্ন নামে জঙ্গিরা ফের সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে বলে সূত্র জানিয়েছে। এদের কোনো গ্রুপ কখনো নব্য জেএমবি, কখনো আনসারুল্লাহ বাংলা টিম বা কখনো ভিন্ন নামে সক্রিয় রয়েছে। কৌশল পাল্টে এখন তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে প্রাথমিক কর্মী সংগ্রহে সচেষ্ট রয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্র। এছাড়া জামিনে বাইরে থাকা জঙ্গিদেরও নজরদারিতে রাখা হয়েছে বলে তাদের দাবি।

বিএনপি-জামায়াত জোট সরকাররের শাসনামলের এই ঘটনায় নিজেদের সামর্থ্যের জানান দেয় দেশিয় জঙ্গিরা। একযোগে তেষট্টিটি জেলার প্রায় চার শতাধিক’ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পাঁচশ বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে তারা।

তাদের ওই হামলার উদ্দেশ্য সম্পর্কে ডিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম একটি বেসরকারি টিভিকে বলেন, ‘এই সিরিজ বোমা হামলা ছিল পৃথিবীর ইতিহাসেই অন্যতম সফল জঙ্গি হামলা। তারা তাদের উদ্দেশ্য পুরোপুরি বজায় রেখেছিল। মেক্সিমাম কেপাসিটি বলতে যা বোঝায় তখন তাদের সেটা গড়ে উঠেছিল।’

২০০০-২০০৫ সালের তুলনায় এখনকার জঙ্গি সংগঠনগুলোর সক্ষমতা খুবই নগণ্য উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, ‘হলি আর্টিজানের হামলাসহ গত কয়েক বছরে জঙ্গি সংগঠনগুলোর যে কেপাসিটি গড়ে উঠেছিল তা ২০০৫ সালের ১৭ আগস্টের মত গড়ে উঠেনি।’

প্রথমকণ্ঠ / এস এম

সংবাদটি শেয়ার করতে এখানে ক্লিক করুন




All rights reserved © Prothom Kantho
Design BY Code For Host, Inc