বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হোস্টেলে টাঙ্গাইলের লাইজু আক্তারের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হোস্টেলে টাঙ্গাইলের লাইজু আক্তারের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

প্রথমকণ্ঠ ডেস্কঃ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের নার্সিং হোস্টেল থেকে লাইজু আক্তার (২৭) নামে এক সিনিয়র স্টাফ নার্সের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গত শনিবার রাত ৮টার দিকে নার্সিং হোস্টেলের ষষ্ঠতলার বাথরুমে লোহার অ্যাঙ্গেলের সঙ্গে গলায় উড়না দিয়ে ফাঁস লাগানো অবস্থায় লাশ উদ্ধার করা হয়। লাইজুর ভাইয়ের দাবি, লাইজুর সঙ্গে দাম্পত্য কলহ চলছিল।
তার বাড়ি টাঙ্গাইল মধুপুর উপজেলার সিঙেরবাড়ি গ্রামে।

গত পাঁচ বছর আগে একই এলাকার সুজন পারভেজের সঙ্গে লাইজুর বিয়ে হয়। সুজন মিরপুর শ্যাওড়াপাড়ায় থাকেন। তাদের দুই বছর বয়সী এক ছেলেসন্তান রয়েছে। ছেলেটি টাঙ্গাইলে দাদির কাছে থাকে। লাইজু হোস্টেলে থেকে চাকরি করতেন। হাসপাতালের শিশু সার্জারির ৫ নম্বর ওয়ার্ডে ডিউটি করতেন তিনি।লাইজুর ভাই জহুরুল ইসলাম বলেন, হাসপাতালটির তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী তানভীর নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে লাইজু সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। তানভীরও বিবাহিত। তার বাড়িও টাঙ্গাইলে।

বিষয়টি জানাজানি হলে তানভীরকে বাসায় ডেকে এনে শাসিয়ে দেওয়া হয়। এসব কারণে লাইজু তার স্বামী সুজনের সঙ্গে এক মাস ধরে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। পরে গত শনিবার রাতে তার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়।লাইজুর স্বামী সুজন পারভেজ বলেন, ‘করোনার শুরুতে আমি ছেলেকে নিয়ে গ্রামে চলে যাই। লাইজু এ সময় থেকে হোস্টেলে থাকা শুরু করে। তার কর্মক্ষেত্রে এক ছেলে তাকে ডিস্টার্ব করত। পরে লাইজুও তার প্রতি ঝুঁকে যায়। আমি ঢাকা আসার পর লাইজুকে ওই ছেলের সঙ্গে কথা বলতে নিষেধ করি। কিন্তু আমার কথা শোনে না। সে কথা বলা চালিয়ে যাচ্ছিল। ’

তিনি আরও বলেন, ‘গত এক মাস লাইজু আমার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। আমার ফোন নম্বর ব্ল্যাকলিস্টে রাখে। আমি ফোন দিয়েও তাকে পেতাম না। তার মৃত্যুর জন্য ওই ছেলেই দায়ী। ’

শাহবাগ থানার পরিদর্শক (অপারেশন) মাহবুবুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে শনিবার রাতে হাসপাতালের নার্সিং হোস্টেল থেকে লাইজুর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করি। পরে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। লাইজুর সঙ্গে তানভীর নামে এক যুবকের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। এ বিষয় নিয়ে তার পরিবার ও স্বামীর সঙ্গে সম্পর্ক ভালো ছিল না। এসব কারণে সে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলে মৃত্যুর কারণ জানা যাবে।

সংবাদটি শেয়ার করতে এখানে ক্লিক করুন




All rights reserved © Prothom Kantho
Design BY Code For Host, Inc