নিজেকে ভালবাসুন আত্মহত্যা করবেন না

নিজেকে ভালবাসুন আত্মহত্যা করবেন না

জাকির হোসেনঃ

আপনার জীবনের মূল্য অনেক অনেক বেশি। এই মূল্যবান জীবনকে ধ্বংস করবেন না। নিজেকে ভালবাসুন আত্মহত্যা করবেন না। জীবন থেকে পালিয়ে যাবার জন্য যারা আত্মহত্যা করে, সত্যিকারার্থে কি তারা জীবন থেকে পালাতে পারে? কখনো না, বরং এই আত্মহত্যার মাধ্যমে যন্ত্রণার যেই জীবন থেকে সে পালাতে চেয়েছিল, সেই যন্ত্রণা থেকে কখনোই নিষ্কৃৃতি পাবে না। বরং অসীমের আরেক অধিক কঠিন যন্ত্রণাময় জীবনে তাকে প্রবেশ করতে হবে। সেখানে লেলিহান শিখা তাকে দাহ করবে। দুনিয়ার জীবনে পালাবার সুযোগ থাকলেও সেখান থেকে সে আর পালাতে পারবে না। অনন্তকাল সেখানে তাকে জ¦লতে হবে জ¦লতেই হবে। সেখানকার যন্ত্রণা কত যে ভয়াবহ তা কোন কালি-কলম দিয়ে বর্ণনা করা অসম্ভব এবং তা মানুষের কল্পনাতীত। কুরআন-হাদীস থেকে যতটুকু অনুভব করা যায় তা নীচে সামান্যই বর্ণনা করা চেষ্টা করা হয়েছে। তার আগে বলুন, কেন আপনি নিজের এই মূল্যবান জীবনকে ধ্বংস করতে চাচ্ছেন? আল্লাহর এই বিশাল দুনিয়াটা কি খুব ছোট? এই মামুলি যন্ত্রণা নিভাতে আপাতত একটু বেরিয়ে আসুন না, আল্লাহর কাছে সাহায্যের জন্য দুটো হাত প্রসারিত করুন। আল্লাহ আপনার যন্ত্রণা প্রশমিত করে দিবেন। সামনের অন্ধকার পথটি তিনি আলোকিত করে দিবেন। একটু চেষ্টা করে দেখুন। বিশেষভাবে পরিলক্ষিত হয় যুবক-যুবতিরাই বেশি জীবন সংগ্রাম থেকে পালাবার জন্য আত্মহত্যার ঘৃণ্য পথ বেছে নেয়। আমাদের এতদঞ্চলে তুচ্ছ খুবই তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এ ধরনের ধ্বংসের পথে পা বাড়াতে দেখা যায়।

যেমন: অবৈধ কোন প্রেমের ব্যর্থতা বা প্রতারণা, পারিবারিক কলহ, বখাটেদের উৎপাত, পরীক্ষার রিজাল্ট খারাপ হয়েছে, স্বামীর নির্যাতন, যৌতুক সমস্যা, স্বামীর অর্থনৈতিক দুরাবস্থা, স্ত্রীর পরকীয়া ইত্যাদি থেকে বাঁচার জন্য সাধারণত আত্মহত্যার প্রবণতাই বেশি। এগুলো কোন সমস্যাই নয়? এই সমস্ত সমস্যা পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন জাতিতে বিদ্যমান আছে। কিন্তু আমাদের মতো আত্মহত্যার হার খুবই কম। তারা জীবন থেকে না পালিয়ে কঠিন জীবন সংগ্রামে লেগে যায়। কারণ তারা জীবনকে ভালবাসে। তাই জীবনকে নতুন করে সাজায়। পার্থিব রঙিন স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে যায়। সফলও হয় বটে। ইসলামে আত্মহত্যা কবীরাহ গুনাহ। ইসলামী চিন্তাবিদগণ শিরকের পর আত্মহত্যাকে মারাত্মক গুনাহ হিসাবে চিহ্নিত করেছেন। আল্লাহ তা’আলা বলেন,“ আর নিজেকে হত্যা করো না। নিশ্চিত জানো, আল্লাহ তোমাদের প্রতি মেহেরবান। যে ব্যক্তি জুলুম ও অন্যায় বাড়াবাড়ি করে এমনটি করবে তাকে আমি অবশ্যি আগুনে নিক্ষেপ করবো। আর আল্লাহর জন্য এটা কোন কঠিন কাজ নয়।”(সুরা নিসা: ২৯-৩০) আল্লাহ বলেন, “তোমরা নিজ হাতে নিজেদেরকে ধ্বংসে নিক্ষেপ করো না।” (বাকারা: ১৯৫) আল্লাহ রাউফুম বিল ইবাদ অর্থাৎ বান্দার প্রতি করুণাশীল। আল্লাহ আমাদের শুভাকাক্সক্ষী। তিনি আমাদের ভালো চান। তিনি আমাদের এমন কাজ করতে নিষেধ করছেন যার মধ্যে আমাদের নিজেদের ধ্বংস নিহিত রয়েছে। মৃত্যুর কাজটি আল্লাহর অধিকার। অতএব, কেউ যদি কাজটি নিজের হাতে তুলে নেয় সে মূলত: আল্লাহর অধিকারে হস্তক্ষেপ করে। আল্লাহ তা’আলা বলেন, “তিনিই জীবন দান করেন এবং তিনিই মৃত্যু ঘটান আর তাঁর কাছেই তোমাদের প্রত্যাবর্তন করতে হবে। তাই নিজে নিজে জীবন হরণ করা আল্লাহ পছন্দ করেন না। এ কাজ থেকে বিরত থাকার জন্য আল্লাহ তা’আলা বিশেষভাবে নির্দেশ দান করেছেন এবং পরিণামের ভয়াবহতা, কঠোর যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির কথাও বলেছেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামও এই কাজটি থেকে বিরত থাকতে বলেছেন। তিনি মানুষকে সতর্ক করেছেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি ইসলাম ব্যতীত অন্য কোন ধর্মের উপর মিথ্যা কসম করে, সে সেই দলেরই। আর যে ব্যক্তি দুনিয়াতে কোন বস্তুু দ্বারা আত্মহত্যা করবে, কিয়ামতের দিন উক্ত বস্তুু দ্বারা তাকে শাস্তি প্রদান করা হবে। আবু হোরায়রা রা: থেকে বর্ণিত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি কোন ধারালো অস্ত্র দ্বারা আত্মহত্যা করবে, জাহান্নামের মধ্যে সে অস্ত্র দ্বারা সে নিজের পেটে আঘাত করতে থাকবে, এভাবে তথায় সে চিরকাল অবস্থান করবে। আর যে ব্যক্তি বিষপানে আত্মহত্যা করবে সে জাহান্নামের আগুনের মধ্যে অবস্থান করে উক্ত বিষপান করতে থাকবে, এভাবে তথায় সে চিরকাল অবস্থান করবে। আর যে ব্যক্তি নিজে পাহাড় থেকে পড়ে আত্মহত্যা করবে, সে ব্যক্তি সর্বদা পাহাড় থেকে নীচে গড়িয়ে জাহান্নামের আগুনে পড়তে থাকবে এভাবে সে ব্যক্তি তথায় চিরকাল অবস্থান করবে।” আত্মহত্যা তো দূরের কথা কোন বিপদে পড়ে বা জীবন কাতর হয়ে নিজের মৃত্যু কামনা করাও ইসলাম নিষেধ করেছে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “তোমাদের কেউ যেন কোন বিপদে পতিত হয়ে মৃত্যু কামনা না করে। মৃত্যু যদি তাকে প্রত্যাশা করতেই হয় তবে সে যেন বলে, ‘হে আল্লাহ আমাকে সে অবধি জীবিত রাখ, যতক্ষণ আমার জীবনটা আমার জন্য কল্যাণকর। আর আমাকে তখনই মৃত্যু দিন যখন মৃত্যুই হয় আমার জন্য শ্রেয়।” সুতরাং আত্মহত্যা করবেন না। জীবনের প্রতি যদি কখনো বিতৃষ্ণাভাব এসেই যায়, তখন বেশি করে আল্লাহর যিক্রর করুন এবং ইবাদাতের প্রতি বেশি মনযোগ নিবদ্ধ করুন। হতাশা, মনোকষ্ট, দুঃখ-বেদনা আল্লাহ মুছে দিবেন। জীবনের সার্থকতা খুঁেজ পাবেন। ইনশা’আল্লাহ।

সংবাদটি শেয়ার করতে এখানে ক্লিক করুন




All rights reserved © Prothom Kantho
Design BY Code For Host, Inc